ভারতের মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলের যবতমাল জেলায় ভয়াবহ গরমে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পুসাদের কাছে খান্দালা ঘাট এলাকায় এক তৃষ্ণার্ত বানর পানি খুঁজতে গিয়ে চলন্ত একটি বাস থামিয়েছে। এরপর যাত্রীদের মানবিক প্রচেষ্টায় সেখানে এক আবেগঘন দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৩টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (এমএসআরটিসি) একটি বাস ওয়াশিম থেকে পুসাদ যাওয়ার পথে ঘন বনাঞ্চল ঘেরা খান্দালা ঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এক বানর রাস্তায় উঠে সরাসরি বাসের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। এতে চালক বাস থামাতে বাধ্য হন।
প্রথমে চালক ও যাত্রীরা বানরটিকে সরানোর চেষ্টা করেন। তবে বানরটি সরে না গিয়ে রাস্তার মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রীরা জানান, বানরটিকে দেখে অস্বাভাবিক দুর্বল ও ক্লান্ত মনে হয়েছিল।
প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতার কারণে বানরটি কষ্টে আছে বুঝতে পেরে কিছু যাত্রী পানির বোতল এগিয়ে দেন। পানি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বানরটি দ্রুত পান করতে শুরু করে। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশ থেকে আরও কয়েকটি বানর এসে বাসের চারপাশে জড়ো হয়।
যাত্রীরা জানান, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত করুণ, শুকিয়ে যাওয়া ও ক্লান্ত বানরগুলো একটু পানির জন্য অসহায়ভাবে ছুটোছুটি করছিল। এ সময় বহু যাত্রী নিজেদের পানির বোতল এগিয়ে দেন এবং বানরগুলোর তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করেন।
লতা শ্রিভাস নামে এক যাত্রীর ওই সময়ের ধারণ করা ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ এবং ‘তীব্র গরমের ভয়াবহ সতর্কবার্তা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
এনডিটিভি বলছে, ঘটনাটি মহারাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও পানি সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বিদর্ভের মতো খরাপ্রবণ এলাকায় যেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে।
সাধারণত দেশটির বন বিভাগ গ্রীষ্মকালে বন্যপ্রাণীদের জন্য কৃত্রিম পানির উৎস ও ট্যাঙ্ক স্থাপন করে থাকে। তবে স্থানীয়রা ও সোশ্যাল মিড়িয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— বনের ভেতরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা সত্যিই কি আছে, নাকি থাকলে তা যথেষ্ট নয়, যার ফলে প্রাণীরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় চলে আসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক। মানুষও কষ্টে আছে, কিন্তু প্রাণীদের এমন অবস্থা দেখা আরও বেদনাদায়ক। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এটা সত্যিই দুঃখজনক, প্রকৃতি যেন তীব্র গরমে ভেঙে পড়ছে।
