ইরান যুুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় রকমের বিপর্যয় ঘটেছে। তাদের ৪২টি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ ৩০ কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান শেষ। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪২টি মার্কিন সামরিক বিমান হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৪টি এমকিউ-৯ র্যাপার ড্রোন। এর প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
তালিকায় আরও আছে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে তিনটি ১লা মার্চ কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষার ভুলে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ ভূপাতিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চতুর্থটি ৩রা এপ্রিল ইরানি বাহিনীর গুলিতে ধ্বংস হয়। এরপর ডনাল্ড ট্রাম্প একে ‘মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে সাহসী অভিযান’ বলে আখ্যা দেন। এর মাধ্যমে পাইলট ও অস্ত্র বিষয়ক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমান। যা গোপন অভিযানে ব্যবহৃত বিশেষভাবে রূপান্তরিত সুপার হারকিউলিস। উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানে মাটিতে ইচ্ছাকৃত ধ্বংস করা হয়। কারণ সেগুলো আর উড্ডয়নযোগ্য ছিল না।
একই অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ারথগ স্থল আক্রমণ বিমান ইরানি গুলিতে ভূপাতিত হয়। ১২ই মার্চ ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হয়। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে আরও ১০টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি বিমান সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মাটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ছিল একটি ই-৩ সেনট্রি এডব্লিউএসিএস নজরদারি বিমান, যা একটি অরক্ষিত ট্যাক্সিওয়েতে পার্ক করা ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
একটি এইচএইচ-৬০ ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টারও উদ্ধার অভিযানের সময় ছোট অস্ত্রের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলাদা কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত চারটি লিটল বার্ড বিশেষ অভিযানের হেলিকপ্টারও ধ্বংস হয়েছে- যা কংগ্রেসের হিসাবের মধ্যে নেই। যুদ্ধের ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার হে হার্স্ট ১২ই মে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই এই ব্যয় ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যয়ের বড় অংশ গোলাবারুদ প্রতিস্থাপন ও সরঞ্জাম মেরামতে ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি মোতায়েন থাকা বাহিনীর পরিচালন ব্যয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এমন সময় সামনে এসেছে যখন ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সংকট শেষ করার জন্য চাপের মুখে আছেন। কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।
এদিকে ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপে নতুন করে হামলা চালানো হবে কি না- এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়। ইসরাইলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ফোনালাপটি ছিল দীর্ঘ ও নাটকীয়। নেতানিয়াহু মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় শান্তিচুক্তি সম্ভব নয় এবং তিনি সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে চান। অন্যদিকে ট্রাম্প চাইছেন একটি চুক্তি এগিয়ে নিতে, যেখানে ইরানকে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে। তারপরই যুদ্ধের দিকে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
