কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব বাড়ছেই

ফন্ট সাইজ:

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মঙ্গলবারও সেখানে ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা ১৩১। এ ঘটনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষের দৈনিক বুলেটিন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৫১৬টি সন্দেহভাজন আক্রান্ত ও ৩৩টি নিশ্চিত আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডায়ও ২ জন নিশ্চিত আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসাস শনিবার এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেন। এটি প্রথমবারের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোনো প্রধান জরুরি কমিটি বসানোর আগেই এমন ঘোষণা দিলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এই প্রাদুর্ভাব বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ এটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং সশস্ত্র সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে অজান্তেই ছড়িয়ে পড়ছিল। ২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাব ছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী। তাতে প্রায় ২৩০০ মানুষ মারা যায়। বড় শহর বুটেম্বোতে সোমবার প্রথমবারের মতো দুটি নিশ্চিত কেস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বায়োমেডিকেল রিসার্চের পরিচালক জ্যঁ-জ্যাক মুইয়েমবে।

উগান্ডার কর্তৃপক্ষ ইশাশা-কিয়েশেরো সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে চলাচল সীমিত করতে শুরু করেছে। স্থানীয় সরকার কর্মকর্তা অ্যামব্রোস আমানিয়ে মওয়েসিগিয়ে জানিয়েছেন, সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

দক্ষিণে গোমা ও বুকাভু শহর থেকে রুয়ান্ডায় প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষদেরও সীমান্তে থামিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রুয়ান্ডা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য দেয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, সীমান্ত বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ এতে মানুষ অনিয়ন্ত্রিত পথে চলাচল করতে পারে, যা রোগ আরও ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইবোলা সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তি বা প্রাণীর শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এর গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। টেড্রোস বলেন, আমি এই মহামারির বিস্তার ও গতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কঙ্গো প্রতিনিধি অ্যান আনসিয়া জানিয়েছেন, ডায়াগনস্টিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় শনাক্তকরণে দেরি হচ্ছে। বর্তমানে বান্দিবুগিও স্ট্রেইনের জন্য ঘণ্টায় মাত্র ছয়টি পরীক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দাতা দেশগুলোর স্বাস্থ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সিয়েরা লিওনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অস্টিন ডেম্বি জেনেভায় বলেন, আমরা যেন একটি মহামারির সুযোগ নষ্ট করেছি। কারণ সবাই আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, এক মার্কিন নাগরিক ইবোলা পজিটিভ হয়েছেন। তাকে তার ধর্মীয় মিশন সংগঠন পিটার স্ট্যাফোর্ড হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং তার সঙ্গে সংস্পর্শে আসা আরও ছয়জন মার্কিন নাগরিককে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য জার্মানিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন