টিকটক তারকা হত্যার দায়ে উমরের মৃত্যুদণ্ড

টিকটক তারকা হত্যার দায়ে উমরের মৃত্যুদণ্ড

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের টিকটক তারকা ১৭ বছর বয়সী সানা ইউসুফ। তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করে উমর হায়াত। এ অভিযোগে উমরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালন। সানা’কে হত্যার ঘটনায় পুরো দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, গত বছর ১৭ই জুন সানা’কে হত্যা করে উমর।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সানা ইউসুফকে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিল উমর। কিন্তু তার সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তাকে গুলি করে হত্যা করে। ২৩ বছর বয়সী উমর হায়াত জুলাই মাসে তার অপরাধ স্বীকার করে এবং জানায়, অনলাইনে যোগাযোগের পর সে সানা ইউসুফের প্রতি একতরফা আসক্ত হয়ে পড়ে। রায়ের পর সানা ইউসুফের পিতা সাঈদ ইউসুফ হাসান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ইসলামাবাদ আদালতের এই রায় সমাজের এমন অপরাধীদের জন্য একটি শিক্ষা। আদালত উমর হায়াতকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, হত্যার কয়েকদিন আগে উমর হায়াত ইসলামাবাদে যায় সানা ইউসুফকে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। তবে সানা ইউসুফ তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরও সে তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। শেষ পর্যন্ত তা হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। সানা ইউসুফের টিকটকে ১০ লাখেরও বেশি এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৫ লাখ অনুসারী ছিলেন। তিনি হালকা কনটেন্ট, ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুসরণ, লিপসিং ভিডিও এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর দৃশ্যের জন্য জনপ্রিয় ছিলেন।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, তার এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একটি বড় ধারার অংশ। পুলিশ রাজধানী ইসলামাবাদ এবং পাঞ্জাব প্রদেশজুড়ে অভিযান চালায়। সানা ইউসুফের পরিবারের এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় এবং ১১৩টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। অনেকে এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, সামাজিক মাধ্যমে সানা ইউসুফের কাজ নিয়েও সমালোচনা দেখা গেছে।

ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ‘বলো ভি’-এর পরিচালক উসামা খিলজি বলেন, এ ধরনের সমালোচনা মূলত কিছু সংখ্যক, প্রধানত পুরুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে এসেছে। তারা ধর্মীয় যুক্তিও দেখিয়েছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছে- কেন তিনি এসব কনটেন্ট পোস্ট করতেন এবং এমনকি তার পরিবারকে তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পরামর্শও দিয়েছেন। কারণ এগুলো নাকি ‘পাপের’ কারণ। মানবাধিকারকর্মী ফারজানা বারি বলেন, এই প্রতিক্রিয়া ‘নারীবিদ্বেষী’ এবং ‘পিতৃতান্ত্রিক’ মানসিকতার প্রতিফলন। তিনি বলেন, সানা ইউসুফের নিজের একটি কণ্ঠস্বর ছিল এবং অনলাইনে এ ধরনের আলোচনা দেখিয়ে দেয় যে- সামাজিক মাধ্যম পাকিস্তানে নারী কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে।

Kazi

২ মাস আগে

উগ্র আচরণের শাস্তির আদেশ আমার মনঃপুত হয়েছে। আমার বিশ্বাস সঠিক রায় সমাজের উগ্র মানুষের আচরণে লাগাম টানবে।

মন্তব্য করুন