মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলার হুমকি দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আরও অনেক চমক’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী আবার যুদ্ধ শুরু করলে শত্রুপক্ষকে নতুন ধাক্কার মুখে পড়তে হবে। আগের সংঘাত থেকে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং ‘যুদ্ধ ফিরে এলে সেখানে আরও অনেক চমক থাকবে’।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তেহরানকে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘দুই থেকে তিন দিনের’ আলটিমেটাম দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালাতে পারে। এর আগে তিনি জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানে নতুন করে হামলা স্থগিত রেখেছেন। ওদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ইরান যুদ্ধ অতি শিগগিরই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার এ ঘোষণায় তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।
তবে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি দাবি করেন, ইরানি বাহিনীই প্রথম মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এ বিষয়ে তিনি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রয়েছে। এক্সে দেয়া পোস্টে আরাঘচি লিখেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর মার্কিন কংগ্রেস স্বীকার করেছে যে বিলিয়ন ডলার মূল্যের বহু বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীই প্রথম বহুল আলোচিত এফ-৩৫ ভূপাতিত করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমরা যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তাতে যুদ্ধ ফিরে এলে আরও অনেক চমক দেখা যাবে।
তেহরানের সেনাবাহিনীও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ট্রাম্প যদি নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ‘নতুন ফ্রন্ট’ খুলে দেয়া হবে। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ‘নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলবে’। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কে ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
তবে ডনাল্ড ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের হামলা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেয়ার ‘মাত্র এক ঘণ্টা দূরে’ ছিলেন তিনি। তবে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধ অবসানের আলোচনার কারণে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চললেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্প বলেন, যখন আপনি কোনো দেশকে খুব খারাপভাবে হারাচ্ছেন, তখন আলোচনা কেমন হয় তা তো জানেন। তারা আলোচনার টেবিলে আসে, চুক্তির জন্য অনুরোধ করতে থাকে। তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি আমাদের যুদ্ধ করতে হবে না। তবে হয়তো তাদের আরেকটি বড় আঘাত দিতে হতে পারে। এখনো নিশ্চিত নই।
তবে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে আইনপ্রণেতাদের সামনে ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন খুব দ্রুত এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাবে। তিনি বলেন, তারা খুব মরিয়া হয়ে চুক্তি করতে চাইছে। তারা এ পরিস্থিতিতে ক্লান্ত। একই সঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের মাথায় এখনো পারমাণবিক অস্ত্রের চিন্তা রয়েছে, আর আমরা তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না। এর আগেই ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চান।
