সামান্য একটি গাড়ি ঘষার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গল শহর। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে শুরু হওয়া বিরোধ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে। শহরের একাধিক এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ রোডে র্যাব ক্যাম্পের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের মধ্যে সামান্য ঘষা লাগে। এ নিয়ে দুই চালকের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই উভয় পক্ষের আরও লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায়।
দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শহরের হবিগঞ্জ রোড, কলেজ রোড, স্টেশন রোড ও ভানুগাছ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। সংঘর্ষের সময় রাস্তায় থাকা সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন অন্তত ৬ সাংবাদিক। আহত সাংবাদিকরা হলেন- আমজাদ হোসেন বাচ্চু, ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহিদ, এসকে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর ও মো. আলামিন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
এ ছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন- রাব্বি, আইয়ুব আলী, বিশাল, শওকত, রাকিব, বিল্লাল মিয়া, চয়ন মিয়া ও আমির মিয়াসহ আরও অনেকে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহত অন্তত ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বেশির ভাগ আহতের মাথা ও শরীরে আঘাত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের নেতারা বৈঠকে অংশ নেন। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষ থেকে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
