নেছারাবাদে নির্মল ওজার রহস্যজনক মৃত্যু

স্বর্ণালংকার নাকি ওজালির বিরোধ, ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

নেছারাবাদে নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার হওয়া নির্মল হালদার (৬০) ওরফে নির্মল ওজার লাশ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য ও নানা প্রশ্ন। পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা সামনে আসছে। কেউ বলছেন স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কেউ মনে করছেন ওজালি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। নিহত নির্মলের ছেলে সুমন হালদার বলেন, তার বাবা সবসময় গলায় দেড় ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন এবং সঙ্গে টাকা-পয়সা ও ফোন রাখতেন। তার দাবি, পরিচিত কেউ কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে এসব আত্মসাৎ করেছে। তিনি জানান, গত সোমবার প্রতিদিনের মতো বিকালে বাড়ি থেকে কুড়িয়ানা বাজারে বের হন তিনি। সাধারণত রাত ৮টার মধ্যে বাড়ি ফিরলেও ওইদিন রাত ৯টা পর্যন্ত না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ১০টার দিকে থানায় জিডি করতে যান। মঙ্গলবার সকালে জানতে পারেন পার্শ¦বর্তী স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে তার লাশ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একাধিক প্রতিবেশী জানান, প্রায় ত্রিশ বছর আগে ঝালকাঠি থেকে পশ্চিম কুড়িয়ানায় এসে বসবাস শুরু করেন নির্মল। প্রথম জীবনে তিনি খুবই দরিদ্র ছিলেন। কখনো মাছ ধরতেন, আবার কখনো অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করতেন। তবে গত এক দশকে ওজালি করে হঠাৎ আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন।

তাদের ভাষ্য, অনেকের কাজে তার ওজালি সফল হলেও কারও ক্ষেত্রে কাজ হতো না। হয়তো কারও কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই রাগ থেকেই দূর থেকে এসে কেউ তাকে হত্যা করতে পারে বলে ধারণা তাদের। তবে স্থানীয়দের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয় বলেও দাবি করেন তারা। কুড়িয়ানা বাজারের চা দোকানি নূরজাহান বেগম জানান, গত সোমবার সন্ধ্যার পর ঝড়ের সময় নির্মল তার দোকানে এসে কলা ও কেক খান। এ সময় তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে কথা বলেই তিনি পাশের পানের দোকানের দিকে চলে যান। পানের দোকানি গকুল বিশ্বাস বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে নির্মল তার দোকানে এসে পান খান। পরে দোকানের সামনে থেকে একটি অটোরিকশায় করে পশ্চিম দিকে মাহমুদকাঠি-স্বরূপকাঠি সড়কের দিকে চলে যান। পরদিন সকালে তার মৃত্যুর খবর শুনতে পান তিনি।

নেছারাবাদ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের গলায় চাপের দাগ এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, মরদেহের গলার অংশে আঘাতের চিহ্ন এবং অণ্ডকোষে জখম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের শিক্ষক শাহ আলমের পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে নির্মল হালদারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নির্মল ওজা নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বিপেন হালদারের ছেলে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন