সোমবার মার্কিন এক ফেডারেল আদালত ওপেনএআই এবং এর শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ইলন মাস্কের দায়ের করা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, তারা একটি যৌথ ভিশন- মানবতার কল্যাণে নিবেদিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক ওপেনএআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানিতে তিনি প্রথম দিকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন যে, ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং তার শীর্ষ সহযোগীরা তার অজান্তে কোম্পানিকে লাভজনক ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করেছেন।
নয় সদস্যের একটি জুরি সিদ্ধান্ত দেয় যে, ইলন মাস্ক মামলা করতে অনেক দেরি করেছেন এবং আইনগত সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। এই জুরি মূলত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করলেও বিচারক ইভন গনজালেস রজার্স সোমবার তাদের রায় আদালতের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করে মাস্কের দাবি খারিজ করেন। জুরি মাত্র দুই ঘণ্টা আলোচনার পর রায় দেয়।
ওকল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৭শে এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিচার তিন সপ্তাহ ধরে চলে। এতে সিলিকন ভ্যালির দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের তীব্র বিরোধ এবং ওপেনএআই-এর শুরুর ইতিহাস উঠে আসে। বর্তমানে কোম্পানিটির মূল্য প্রায় ৮৫২ বিলিয়ন ডলার এবং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শেয়ার ইস্যু (আইপিও)-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
অল্টম্যান এবং ওপেনএআই দাবি করে, প্রতিষ্ঠানটিকে চিরকাল অলাভজনক রাখার কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। তাদের মতে, মাস্ক এটি জানতেন। কিন্তু তিনি দ্রুত বর্ধনশীল এআই কোম্পানির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ না পেয়ে মামলা করেন। মাস্ক ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ দাবি করেছিলেন, যা ওপেনএআই-এর দাতব্য কার্যক্রমে ব্যবহার করা হতো। পাশাপাশি স্যাম অল্টম্যানকে বোর্ড থেকে সরানোর দাবিও তুলেছিলেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, অল্টম্যানকে ২০২৩ সালে বরখাস্ত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি আবার ফিরে আসেন, যা পুরো বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
বিচার চলাকালে সাক্ষ্য দেন ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান, ওপেনএআই-এর শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেগ ব্রকম্যান, মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা এবং আরও অনেকে। মাস্ক বলেন, তারা এই মামলাটিকে জটিল বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিষয়টি খুবই সহজ- একটি চ্যারিটি থেকে চুরি করা ঠিক নয়।
অল্টম্যান ও ব্রকম্যানের বিরুদ্ধে ইলন মাস্ক অভিযোগ করেন যে ওপেনএআই-এর মূল্য দ্রুত বাড়ার প্রেক্ষাপটে তারা দাতব্য তহবিলের অপব্যবহার করে নিজেদের বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। ব্রকম্যান জানান, ওপেনএআই-এ তার অংশীদারিত্বের মূল্য প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। ওপেনএআই এসব অভিযোগকে অসত্য এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে করা মামলা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, মাস্ক মূলত প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান এক্সএআই গড়ে তোলার জন্য এই মামলা করেছেন। এক্সএআই তিনি ২০২৩ সালে শুরু করেন।
জেরা চলাকালে ইলন মাস্ক কিছু সময় ওপেনএআই-এর আইনজীবীর প্রশ্নের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আপনার প্রশ্নগুলো সহজ নয়। এগুলো আমাকে ফাঁদে ফেলতে তৈরি করা হয়েছে। বিচারে আরও সাক্ষ্য দেন ওপেনএআই-এর সাবেক বোর্ড সদস্য হেলেন টোনার এবং টাশা ম্যাককলি। তারা জানান, ২০২৩ সালে অল্টম্যানকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বোর্ড। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি আবার ফিরে আসেন এবং সেইসঙ্গে বোর্ড থেকেও তাদের সরিয়ে দেয়া হয়।
স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্ক দু’জনই ওপেনএআই-এর শুরুর দিকে সিইও হওয়ার প্রতিযোগিতায় ছিলেন। অল্টম্যান বলেন, ওপেনএআই শুরু করার অন্যতম কারণ ছিল- কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) কোনো এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে না থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, একসময় তিনি মাস্ককে নিয়ে খুব উচ্চ ধারণা করতেন। কিন্তু পরে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। অল্টম্যান বলেন, মাস্ক তাদের ত্যাগ করেছেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি এবং কোম্পানিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছেন।
