চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াংশি অঞ্চলে সোমবার ভোরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভূমিকম্পে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পর লিউঝৌ শহর থেকে সাত হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একজন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকেই লিউঝৌ শহরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২১ মিনিটে গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৮ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি এবং বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দু’জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। চারজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের কারও আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
সিসিটিভি জানায়, ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে ১৩টি ভবন ধসে পড়ে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বড় পরিসরে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা রাতভর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিনের আলো ফুটলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় একাধিক ধসে পড়া ভবন দেখা গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেললাইন ও অবকাঠামো পরীক্ষা করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলায় পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার উদ্ধার অভিযানে ৫১টি ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধার যান এবং ৩ শতাধিক কর্মী অংশ নিয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র নিরূপণের চেষ্টা চলছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিউঝৌ এলাকায় এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, নদী উপত্যকা এবং উৎপাদন শিল্পের জন্য পরিচিত। শহরটি লিউ নদীর তীরে অবস্থিত এবং দক্ষিণ চীনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চুনাপাথরের পাহাড়ে ঘেরা। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের অন্যতম পবিত্র নগরীর কাছে হিমালয়ের পাদদেশে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ১২৬ জন নিহত হন এবং শত শত বাড়িঘর ধসে পড়ে। ভূমিকম্পের কম্পন নেপাল, ভুটান ও ভারতেও অনুভূত হয়। সে ঘটনায় বহু মানুষ আহত ও আটকা পড়েন। একের পর এক আফটারশকে দুর্গম অঞ্চলটি কেঁপে ওঠে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজতে ভাঙা ইটের স্তূপে উঠে কাজ চালান, কোথাও কোথাও মই ব্যবহার করতেও দেখা যায়।
