নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের হরিহরকাঠি গ্রামে প্রায় শত বছরের একটি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ২০টি পরিবারের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক ও থানায় অভিযোগ করা হলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। রোববার সকালে স্থানীয় সালিশদার মো. রুহুল আমীন, ইউপি সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, রাস্তা রক্ষার দাবিতে কথা বলায় তাদের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন সালিশদার ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী সোহাগ, সোবাহান, নুরজামাল, শাহীন ও ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, হরিহরকাঠি গ্রামের বাড়ি থেকে উপজেলা সদর ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াতের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি মাটির কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। তাদের দাবি, পূর্বপুরুষের আমল থেকে এলাকাবাসীর সম্মিলিত জমির ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তাটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ফারুক মাস্টার রাস্তার সামনের একটি অংশ নিজের দাবি করে সেখানে টয়লেট নির্মাণের চেষ্টা করছেন, ফলে রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি তা আমলে নেননি। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন, বিএনপি নেতা রুহুল আমীন ও মৃত্যুঞ্জয় মিস্ত্রিকে জানালে তারা সরজমিন গিয়ে সবার চলাচলের স্বার্থে রাস্তা আটকে টয়লেট নির্মাণ না করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমার জমি থেকে কোনো রাস্তা হবে না। আমার জমিতে আমি প্রয়োজনীয় টয়লেট নির্মাণ করবো। তাতে সমস্যা কি?
স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. রুহুল আমীন বলেন, ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানালে আমরা কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা বন্ধ না করতে অনুরোধ করি। পরে এসিল্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশে তদন্তপূর্বক ওই স্থানে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। এরপরও বিষয়টি নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক।
ইউপি সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, গ্রামের ২০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে টয়লেট নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা বন্ধ করতে বলেছি। কিন্তু এখন আমাদের বিরুদ্ধেই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
