ঘাতক দুই সন্দেহভাজন আটক

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা পরিচয়ে বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাত

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানুর মারাং এলাকায় ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয়ে একদল দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক বাংলাদেশি শ্রমিক। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কামপুং সুরাউ হাজি ইয়াকোব, বুকিত পায়ুং এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাংলো বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিনার হারিয়ান জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশির নাম বিলাল মাজি (৩০)। হামলায় তার মাথা ও আঙুলে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মারাং জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট মোহদ সফিয়ান রেদজুয়ান বলেছেন, এমইআরএস ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের আলামত দেখতে পায়।

পুলিশ জানিয়েছে, বিলাল মাজি ও তার কয়েকজন সহকর্মী শ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুই স্থানীয় ব্যক্তি সেখানে এসে নিজেদের মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তারা শ্রমিকদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন তল্লাশির জন্য জমা দিতে বলেন।

একজন শ্রমিক মোবাইল ফোন দিলেও বিলাল মাজির সন্দেহ হলে তিনি আশপাশে থাকা অন্য সহকর্মীদের ডাক দেন। এতে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে বের হওয়ার পথের কাছে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের একপর্যায়ে আরও একজন সহযোগী ঘটনাস্থলে এসে যোগ দেয়। পরে অভিযুক্তদের দুইজন ধারালো দা বের করে বিলাল মাজির ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনও আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। তবে আরেকজন মোটরসাইকেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটক ব্যক্তিদের একজন ২৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এবং তার মাদক পরীক্ষায় মেথঅ্যামফেটামিন সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে সহায়তার জন্য কে-নাইন ইউনিট ও তেরেঙ্গানু পুলিশ কন্টিনজেন্ট সদর দপ্তরের ফরেনসিক দল মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে দা, রক্তের নমুনা ও সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত জুতা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে আহত বাংলাদেশি শ্রমিক ও এক সন্দেহভাজন কুয়ালা তেরেঙ্গানুর সুলতানাহ নূর জাহিরাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক সন্দেহভাজনদের রিমান্ডে নেওয়া হবে। মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রসহ ডাকাতির অভিযোগে মামলাটির তদন্ত চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন