নাটকীয়তা: মাদুরোর বিশ্বস্ত সহকারী অ্যালেক্সকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাল ভেনেজুয়েলা

নাটকীয়তা: মাদুরোর বিশ্বস্ত সহকারী অ্যালেক্সকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাল ভেনেজুয়েলা

ফন্ট সাইজ:

ভেনেজুয়েলা সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সা’বকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে দিয়েছে দেশটি। অথচ প্রায় তিন বছর আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষ থেকে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যালেক্স সাব’কে ফেরত দেয়াকে একটি চমকপ্রদ উলটপালট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ শনিবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে চলমান একাধিক ফৌজদারি তদন্তের ভিত্তিতে সা’বকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তাকে কোথায় পাঠানো হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। বিবৃতিতে তাকে ‘কলম্বিয়ান নাগরিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা ভেনেজুয়েলার আইন অনুযায়ী নাগরিকদের প্রত্যর্পণ নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ ইঙ্গিত করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

৫৪ বছর বয়সী সা’ব দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে মাদুরোর ‘বিশ্বস্ত অর্থব্যবস্থাপক’ হিসেবে পরিচিত। এখন তিনি মাদুরোর সাবেক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারেন। মাদুরো নিজেও জানুয়ারিতে এক মার্কিন সামরিক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ম্যানহাটনে মাদক-সংক্রান্ত মামলার বিচারাধীন। এই বিতাড়ন সা’বের জন্য এক নাটকীয় পতনের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালে তার ভেনেজুয়েলায় ফেরাকে মাদুরো সরকার ও শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উদযাপন করেছিল। এর আগে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে জ্বালানি নেয়ার বিরতিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যখন তিনি ইরানে যাচ্ছিলেন। তখন মাদুরো ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দাবি করেন, সা’ব একজন ভেনেজুয়েলীয় কূটনীতিক এবং মানবিক মিশনে ছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানো।

মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর (৩ জানুয়ারি) থেকে ডেলসি রদ্রিগেজ সা’বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। তিনি তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন, বিদেশি বিনিয়োগের যোগাযোগ দায়িত্ব থেকে বাদ দেন এবং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক থেকেও বিচ্ছিন্ন করেন। গুঞ্জন ছিল যে তিনি হয় গৃহবন্দি ছিলেন বা কারাগারে ছিলেন। এই বিতাড়ন ভেনেজুয়েলার শাসক চাভিস্তা আন্দোলনের মধ্যে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে। এই আন্দোলন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের নামানুসারে পরিচিত। রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন, যার মধ্যে তেল ও খনিজ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিষয়ও রয়েছে। কিন্তু কঠোরপন্থী মিত্ররা এটিকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রকে সাম্রাজ্য হিসেবে দেখে। এই সমালোচকদের মধ্যে আছেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন