ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের জেরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকি দিয়েছেন। এরপর পত্রিকাটি বলেছে, এমন আইনি পদক্ষেপ ভিত্তিহীন। নেতানিয়াহু ও ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার এক যৌথ বিবৃতিতে ‘মানহানির মামলা শুরু করার নির্দেশ’ দেয়ার কথা জানানোর পর নিউইয়র্ক টাইমস এই প্রতিক্রিয়া জানায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
সোমবার প্রকাশিত ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলি সেনা, বসতি স্থাপনকারী, জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের মাধ্যমে ‘পুরুষ, নারী এমনকি শিশুদের বিরুদ্ধেও ব্যাপক যৌন সহিংসতার একটি ধারা’ গড়ে উঠেছে। তবে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে ইসরাইল রাষ্ট্র কীভাবে বা আদৌ এমন মামলা করতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু ও গিদিওন সারের প্রকাশিত বিবৃতিতে নিউইয়র্ক টাইমসকে অভিযুক্ত করে বলা হয়, এটি ‘আধুনিক সংবাদমাধ্যমে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিকৃত মিথ্যাগুলোর একটি’।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, রিপোর্টের লেখক নিকোলাস ক্রিস্টফ তার প্রতিবেদনটি ‘হামাস সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত যাচাইবিহীন সূত্রের’ ওপর ভিত্তি করে লিখেছেন। জবাবে নিউইয়র্ক টাইমস এক বিবৃতিতে বলে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নিকোলাস ক্রিস্টফের গভীর অনুসন্ধানভিত্তিক মতামতধর্মী কলাম নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। কলামটিতে ইসরাইলি কারারক্ষী, সেনা, বসতি স্থাপনকারী ও জিজ্ঞাসাবাদকারীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
পত্রিকাটি আরও বলে, গত বছর দেয়া অনুরূপ হুমকির মতো এটিও বহু ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যার উদ্দেশ্য স্বাধীন সাংবাদিকতাকে দুর্বল করা এবং নির্দিষ্ট বয়ানের বাইরে থাকা প্রতিবেদন দমন করা। এ ধরনের যেকোনো আইনি দাবি ভিত্তিহীন হবে। নিউইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনের পর ইসরাইলি রাজনীতিক ও গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এখানে স্পষ্ট অপরাধ বলতে যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো মিস্টার ক্রিস্টফ ও তার পত্রিকার সাংবাদিকতার মান লঙ্ঘন।
বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনে নিউইয়র্ক টাইমসের কার্যালয়ের সামনে বহু ইহুদি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ক্রিস্টফকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানান। ‘দ্য সাইলেন্স দ্যাট মিটস দ্য রেপ অব প্যালেস্টিনিয়ানস’ শিরোনামের ৩ হাজার ৭০০ শব্দের নিবন্ধে ক্রিস্টফ লিখেছেন, ইসরাইলি নেতারা ধর্ষণের নির্দেশ দেন- এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছেন, যেখানে যৌন সহিংসতা জাতিসংঘের গত বছরের এক প্রতিবেদনের ভাষায় ইসরাইলের ‘মানক কার্যপ্রণালির’ অংশ এবং ‘ফিলিস্তিনিদের প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রধান উপাদান’ হয়ে উঠেছে।
ক্রিস্টফ জানান, তার প্রতিবেদনটি ১৪ জন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে লেখা, যারা দাবি করেছেন যে তারা ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নিবন্ধে ধর্ষণ ও বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে নির্যাতনের অভিযোগসহ ভুক্তভোগীদের বর্ণনা তুলে ধরা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি বিভিন্ন এনজিও ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গত বছর দুই ফিলিস্তিনি পুরুষ পৃথকভাবে বিবিসিকে জানান, আটক অবস্থায় তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তাদের একজন বলেন, তাকে যৌন অপমান করতে একটি কুকুর ব্যবহার করা হয়েছিল। সে সময় ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ এক ব্যক্তির অভিযোগের বিষয়ে বলেছিল, উল্লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তারা আরও যোগ করে, আমরা পুরোপুরি আইনের আওতায় কাজ করি। তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির অভিযোগ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
গত বছর গাজার এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে স্দে তেইমান সামরিক কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচ ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাদের একজনের বিরুদ্ধে ধারালো বস্তু দিয়ে বন্দির নিতম্বে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনাটি ইসরাইলে ব্যাপক বিভাজন সৃষ্টি করে। ডানপন্থি সমর্থকরা অভিযোগ করেন, বামপন্থিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে কলঙ্কিত করতে ঘটনাটি ব্যবহার করছে। পরে জানা যায়, ঘটনাটির সিসিটিভি ভিডিও সে সময়ের ইসরাইলি মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল মেজর জেনারেল ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমি ফাঁস করেছিলেন। এর জেরে তাকে পদত্যাগ ও গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের মার্চে ওই পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।

Kazi
২ মাস আগেতার নিজের ( নেতিনইয়াহুর) বিরুদ্ধেই ফিলিস্তিনিদের গনহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। লজ্জা করে না যে আচরণ করেছিল, নির্লজ্জ আবার মানহানির মামলার ভয় দেখায়।