ময়মনসিংহের নান্দাইলের দরিল্যা-গয়েশপুর আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের কাজ ৫ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর অবহেলার কারণে নির্মাণ কাজ ঝুলে থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিদ্যালয়ের চারতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ভবনটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ‘মেসার্স আরবি ট্রেডিং’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী দ্রুত কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ৫ বছর ৫ মাস পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ভবনের দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও ওয়াশরুমের কাজ বাকি রয়েছে। ফলে ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। ভবনের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।
অভিভাবক সদস্য সবুজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভবনটি সময়মতো শেষ হলে আমাদের সন্তানদের পাঠদান যেমন সহজ হতো, তেমনি শিক্ষকদেরও বসার সুবিধা হতো। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও প্রেস ক্লাব নান্দাইলের সাধারণ সম্পাদক শামছ-ই-তাবরীজ রায়হান জানান, ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগাদা দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা আমলে নিচ্ছে না।
ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় বিপাকে আছেন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাদেক। তিনি বলেন, আমরা চাই দ্রুত কাজটি শেষ করে ভবনটি আমাদের বুঝিয়ে দেয়া হোক। অত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুল ইসলাম ফাহিম জানান, উক্ত কাজে অংশীদারিত্ব দেয়ায় কাজটি বিলম্ব হয়েছে, তবে কাজ শতভাগ সঠিক আছে। ঈদের পরপরই বিদ্যালয় ভবন বুঝিয়ে দেয়া হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) অরুন চন্দ্র দাস জানান, তিনি প্রশিক্ষণে আছেন। এরপরেও খোঁজখবর নিচ্ছেন যাতে দ্রুতই ভবনের কাজ সম্পন্ন করা হয় সেজন্য দায়িত্বরত ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
