টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার ম্যাচে রেকর্ডগড়া জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের জয়ে সুপার এইটের টিকিট পায় সালমান আলী আঘার দল। রানের হিসেবে সীমিত সংস্করণের বিশ্বকাপে ‘ম্যান ইন গ্রিন’দের সবচেয়ে বড় জয় এটিই। প্রতিযোগিতার ইতিহাসেই পাকিস্তানের প্রথম অন্তত একশ’ রানের জয় এটি। এদিন ব্যাট হাতে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দারুণ এক রেকর্ড গড়েন সাহিবিজাদা ফারহান।
কলম্বোর এসএসসিতে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান তোলে পাকিস্তান। রান তাড়ায় ১৭.৩ ওভারে ৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় নামিবিয়া। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৮ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন ওপেনার ফারহান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের স্রেফ দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে তিন অঙ্কের দেখা পান এ ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে দলটির একমাত্র ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি ছিল আহমেদ শেহজাদের। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১১১ রান করেন তিনি।
এদিন ৩৭ বলে ফিফটি ছুঁয়ে ৫৭ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন ফারহান। এটি সীমিত সংস্করণের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেহজাদের সেঞ্চুরিটি ছিল এক বল বেশি খেলে। এ সেঞ্চুরিতে এখন পর্যন্ত চলমান বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানের তালিকায় চূড়ায় উঠে এসেছেন ২৯ বছর বয়সী ফারহান। ৪ ইনিংসে ৭৩.৩৩ গড়ে তার সংগ্রহ ২২০ রান। সমান ম্যাচে ৫৯.৩৩ গড়ে ১৭৮ রানে তালিকার দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম।
আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ফারহানকে বেশিক্ষণ সঙ্গে দিতে পারেননি সাইম আইয়ুব (১৪)। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে অধিনায়ক সালমান আলী আঘাকে নিয়ে স্কোরকার্ডে ৬৭ রান যোগ করেন ফারহান। ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন সালমান। বাবর আজমের বদলে চারে ব্যাটিংয়ে আসেন খাওয়াজা নাফে। তবে ৫ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন এ তরুণ ব্যাটারও। এরপরও নামানো হয়নি বাবরকে। পাঁচ নম্বরে ক্রিজে আসেন আরেক লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার শাদাব খান। চতুর্থ উইকেটের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাকে নিয়ে ৪০ বলে ৮১ রান যোগ করেন ফারহান। ইনিংসের শেষ ওভারে তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি।
রান তাড়ায় তুরুপের তাসের মতো ভেঙে পড়ে নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। উদ্বোধনী জুটিতেই সর্বোচ্চ ৩২ রান যোগ করেন লরেন স্টিনকাম্প ও ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে স্টিনকাম্পের ব্যাট থেকে। এছাড়া দুই অঙ্কের রান ছুঁতে পারেন শুধু অ্যালেক্সান্ডার বুসিং-ভলসচেঙ্ক (২০)। পাকিস্তানের হয়ে স্রেফ ১৬ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন সময়ের আলোচিত স্পিনার উসমান তারিক। তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার এটিই। ৩ উইকেট নেন শাদাব খান।
এদিনের জয়ে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় ও টুর্নামেন্টের শেষ দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে পাকিস্তান। সেরা আটে সালমানদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।
