বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরিতে ৭৪ ভোটের মধ্যে রেকর্ড ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হন তিনি। পরে নবনির্বাচিত ২৩ জন পরিচালক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তথা এনএসসির ২ জন মনোনীত প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের ভোটে তাকে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ফাহিম সিনহাকে একমাত্র সহসভাপতি মনোনীত করা হয়।
বিসিবি প্রধানের মসনদে বসেই দেশের ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি আমূল পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এই তারকা ওপেনার। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নেতিবাচকতা ভেঙে ক্রিকেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে দেশের ক্রিকেটের যে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নতুন এই বোর্ড সভাপতি। নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে সম্মানহানি হয়েছে, তা আমি একা পুনরুদ্ধার করতে পারবো না, এখানে আপনাদের সবার পূর্ণ সহযোগিতা আমার প্রয়োজন হবে।’ একই সঙ্গে নবনির্বাচিত পরিচালকদের ব্যক্তিগত পরিচয় ভুলে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান এই নয়া বোর্ড প্রধান।
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরিতে সাঈদ ইব্রাহিম ও ইসরাফিল খসরু ৭২টি করে ভোট পেয়ে পর্ষদে নিজেদের স্থান পোক্ত করেন। এ ছাড়া মাসুদুজ্জামান ৭০ এবং ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল ৬৮ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন। বিজয়ী অন্য প্রার্থীদের মধ্যে শানিয়ান তানিম ৬৬, সাকিব আহমেদ সালাম ৬৫, আসিফ রাব্বানি ৬৪, সরর্জা ইয়াসির আব্বাস ৬৩ এবং রফিকুল ইসলাম বাবু ৫৩ ভোট পান।
সবচেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয় ১ ভোটের ব্যবধানে সৈয়দ বোরহানুল হোসেন হেরে যাওয়ায়, যেখানে ৪১ ভোট পেয়ে শেষ হাসি হাসেন প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। জেলা ও বিভাগীয় ক্যাটাগরি ১ থেকে ঢাকার সাইদ বিন জামান ও এস এম আব্দুল্লাহ ফুয়াদ, সিলেটের আব্দুল কাইয়ুব চৌধুরী, চট্টগ্রামের মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও মঈন উদ্দিন চৌধুরী এবং রাজশাহীর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। খুলনা বিভাগে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. শফিকুল আলম ও শান্তনু ইসলাম ১০টি করে ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বরিশালে মো. মিজানুর রহমান ৭ ভোটের মধ্যে ৫টি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর ক্যাটাগরি ৩ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে বোর্ডে স্থান করে নেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে ত. ইকবাল বলেন, ‘এখানে একটা টেন্সড অবস্থা ছিল যে কে জিতবে, কে হারবে। সবাই টেন্সড অবস্থায় ছিল।’
ভোটের পর প্রথম সভায় সহসভাপতি পদে ফা. সিনহার নাম প্রস্তাব করেন নতুন সভাপতি। গঠনতন্ত্রে দুইজন সহসভাপতির সুযোগ থাকলেও অভ্যন্তরীণ ইগো ও দ্বন্দ্ব এড়াতে আপাতত একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘বোর্ডের প্রত্যেকটা মানুষ সেটার জন্য হাত তুলে জিনিসটাকে সমর্থন দিয়েছে।’ এছাড়াও সমালোচকদের ‘বাপের দোয়া’ ট্যাগকে উড়িয়ে দিয়ে তামিম বলেন, ‘বাপের দোয়ার থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি পারি না ভবিষ্যতে।’
ক্রিকেটের মানোন্নয়নে নিজের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূর্বাচলে আধুনিক হাই পারফরম্যান্স সেন্টার গড়ে তোলা। এ বিষয়ে পপুলাস কোম্পানির ডিজাইন পছন্দ না হওয়ায় ইতোমধ্যে পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেছেন তিনি। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে বিপুল সরকারি অর্থের বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় অর্থমন্ত্রী ও এনএসসির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন ত. ইকবাল। এ ছাড়া ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের উদ্ভূত জটিলতা সমাধানেও তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অ্যাডহক কমিটি ভেঙে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর এই চ্যালেঞ্জিং পথ চলা প্রসঙ্গে তামিম ইকবাল মন্তব্য করেন, ‘আমরা ভুল করবো, ভুল থেকে শিখবো, রাইট কাজ করবো, এটাই আমাদের করা উচিত।’
