যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় কিউবার বয়স্ক নেতা রাউল ক্যাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ৩০ বছর আগের একটি বিমান ভূপাতিত করার জন্য ফৌজদারি অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযোগ দায়ের করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ওদিকে, একই সময়ে সিআইএ’র পরিচালক কিউবার রাজধানী হাভানায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সফর করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
৯৪ বছর বয়সী রাউল ক্যাস্ত্রো ২০২১ সালে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এর মাধ্যমে তার পরিবারের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি ১৫ বছর দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন। তার ভাই কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো পদত্যাগ করার পর তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে এই সম্ভাব্য অভিযোগটি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধির আরেকটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চাপের মধ্যে রয়েছে তেল অবরোধ এবং বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা। অভিযোগগুলোর মূল কেন্দ্র হলো ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর দুটি বিমান ভূপাতিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগামী বুধবারের মধ্যেই এই অভিযোগ আনা হতে পারে। শুক্রবার এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে বলেন- এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় মন্তব্য করবে। তিনি আরও বলেন, কিউবানদের সাহায্য প্রয়োজন, যেমন আপনি জানেন। এটি একটি পতনশীল দেশ। তারা সত্যিই একটি দেশ, একটি অবনতিশীল রাষ্ট্র।
ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে তেল অবরোধ আরোপ করেছেন, যা দেশটিতে জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এ সপ্তাহে কিউবার জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, দ্বীপদেশটির কার্যত জ্বালানি তেল শেষ হয়ে গেছে।
রাউল ক্যাস্ত্রোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগের বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের কেন্দ্র ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির সেই হামলা, যখন ফিদেল ক্যাস্ত্রো প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং রাউল ক্যাস্ত্রো ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন। ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ নামের কিউবান নির্বাসিত সংগঠনটি সমুদ্রে ভেলা ভাসিয়ে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া অভিবাসীদের খোঁজ করত এবং আগে কিউবান উপকূলে সরকারবিরোধী লিফলেটও ফেলেছিল। কিউবা সরকার বলেছিল যে, সংগঠনটি বারবার কিউবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা জানায়, হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপরে ঘটে। মার্চ মাসে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাজ্যটি রাউল ক্যাস্ত্রোর ভূমিকা নিয়ে আবারও তদন্ত শুরু করছে।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সম্ভাব্য এই অভিযোগকে অনেক দেরিতে হলেও সঠিক পদক্ষেপ বলে প্রশংসা করেন। কিউবা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকি সত্ত্বেও কিউবা তার সমাজতান্ত্রিক উন্নয়নের পথে সার্বভৌমভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ আনতে হলে প্রসিকিউটরদের একটি গ্র্যান্ড জুরিকে প্রমাণ করতে হবে যে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এ বিষয়ে নিশ্চিত করেননি। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে কথা বলার সময় এলে আমরা অবশ্যই বলব।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে চায়। সাম্প্রতিক এক সমাবেশে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশটি ‘নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে’। এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত বৃহস্পতিবার সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ হাভানায় কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কিউবান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে রাউল ক্যাস্ত্রোর নাতি রাউল রদ্রিগেজ ক্যাস্ত্রো উপস্থিত ছিলেন। সিআইএ কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহী। তবে কিউবা মৌলিক পরিবর্তন আনলেই তা সম্ভব। কিউবা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকটি ছিল সংলাপ উন্নয়নের প্রচেষ্টা। তবে হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি নয়।
