পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানে যুদ্ধবিরতি

এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প

পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানে যুদ্ধবিরতি

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া ছিল পাকিস্তানের প্রতি একটি ‘অনুগ্রহ’ বা ‘ফেভার’। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না, তবে অন্য একটি দেশের অনুরোধে তা মেনে নিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, আমরা যুদ্ধবিরতি করেছি আরেকটি দেশের অনুরোধে। আমি আসলে এর পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য আমরা এটা করেছি। তারা দারুণ মানুষ- ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও বলেন, তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবেন না। তার মতে, তেহরানের উচিত বহু বছর ধরে জমা করে রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেয়া।

ট্রাম্প জানান, ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের প্রথম বাক্য পড়েই তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, তার মতে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে যথেষ্ট নিশ্চয়তা দেয়নি। তিনি বলেন, আমি এটা দেখেছি, আর যদি প্রথম বাক্যটাই আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমি সেটা ফেলে দিই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানি আলোচকরা দাবি করেছেন যে মার্কিন হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা এখন পারমাণবিক জ্বালানি সরিয়ে নেয়ার অবস্থায় নেই। তিনি বলেন, তারা একটা ভয়ংকর গোপন তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটা সরানোর প্রযুক্তি তাদের নেই। তাদের সময়ও নেই, অভ্যাসও নেই।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ইরান যুদ্ধের কারণে দুর্বল অবস্থায় ট্রাম্প চীন সফরে গিয়েছিলেন।

তবে ইরান ইস্যুতে কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই তিনি ফিরে আসেন। শুক্রবার বেইজিংয়ের ঝোংনানহাই উদ্যানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরান নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা একইভাবে ভাবি- আমরা চাই এর সমাপ্তি হোক। আমরা চাই না তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক। আমরা চাই প্রণালিগুলো খোলা থাকুক।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই তারা (ইরান) এটা শেষ করুক, কারণ ওখানে যা হচ্ছে তা পাগলামি, কিছুটা উন্মাদনার মতো। এটা ভালো কিছু নয়, এটা চলতে পারে না। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পর, যাতে বেইজিং ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, ট্রাম্প পরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চীনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার মনে হয় না ইরান বিষয়ে আমাদের কোনো সহায়তা দরকার। তিনি আরও বলেন, একভাবে বা অন্যভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হবে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে চীন আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে, যাতে ইরান পারস্য উপসাগরে বর্তমান কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসে। রুবিও বলেন, আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়েছি, ইরানকে কোনো ধরনের সমর্থন দিলে তা অবশ্যই আমাদের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হবে। বাণিজ্য আলোচনায়ও এই বিষয়টি অবশ্যই উঠবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন