ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ওই বিদ্যালয়টির ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে। যার ফলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এতে করে দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে। উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ এমন বেহাল দশা।
গত তিন বছর ধরে অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি।
জানা গেছে, অজপাড়াগাঁয়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিদ্যালয়টি। এরপর ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয় বিদ্যালয়টিকে। ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ের জন্য দুইতলাবিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পাকা ভবন নির্মাণের আগে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চলতো টিনশেড ভবনে। বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়টিতে মোট ৬ জন শিক্ষক আছেন।
শিক্ষার্থী মো. সাব্বির আলম ও রত্না বেগম জানায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে আছে। যার জন্য আমরা বিদ্যালয়ে আসলে অনেক ভয়ে থাকি। এছাড়া বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়ে। এতে করে আমাদের ক্লাস করতে সমস্যা হয়।
মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেতারা বেগম বলেন, বিদ্যালয়টিতে বহু সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। এছাড়া একটি টিউবওয়েলের অভাবে বিশুদ্ধ পানির জন্য অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যা নিয়েও বিদ্যালয়টিতে আমরা নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। তবে বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গা থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। তবে এতে কোনো লাভ হয়নি। তাই আমি দাবি করছি- দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিদ্যালয়ের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহে আলম জানান, ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। যার জন্য সেখানে নতুন করে একটি ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই ওই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
