লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদী অংশে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন জেলেরা। বিশেষ করে মৌসুমের এই সময়ে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় শূন্য হাতে ঘাটে ফিরছেন তারা। মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় প্রায় ৭ হাজার জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। এতে একদিকে জেলেদের আয় কমে গেছে, অন্যদিকে স্থানীয় মাছঘাটগুলোতেও দেখা দিয়েছে মাছের সংকট।
ঘাটগুলোতে এখন প্রায় মাছশূন্য ও নীরব পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলেরা জানান, এখন আর আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আগে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেতো, তার পাশাপাশি অন্যান্য মাছও পর্যাপ্ত পাওয়া যেতো। এবার সব ধরনের মাছই কম ধরা পড়ছে। তাদের ভাষ্যমতে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার আশা করেছিলেন, তা পূরণ হয়নি। সমুদ্র থেকে পর্যাপ্ত মাছ নদীতে প্রবেশ না করায় জেলে নৌকাগুলো আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না। একেকটি নৌকা ৩-৪ জন জেলে নিয়ে রাতভর নদীতে থাকলেও ২-৩টি ইলিশ বা তারও কম মাছ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। কোনো কোনো দিন খালি হাতেও ফিরতে হচ্ছে। ক্রেতাদের মতে, জাটকা নিধনের কারণে বড় ইলিশের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। বর্তমানে নদীতে মাছের উপস্থিতি কম থাকায় প্রতিদিন তেল, বরফ ও শ্রমিক খরচ বহন করেও ট্রলারগুলো লোকসানে পড়ছে। অনেক জেলে ধারদেনা করে নদীতে গেলেও মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। চরবংশীর চান্দারখাল এলাকার জেলে পরান মাঝি, শওকত মাঝি ও মিলন মাঝি জানান, নদীতে এখন ছোট মাছও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না।
ইলিশের আশায় গভীর নদীতে গেলেও জালে খুবই কম মাছ উঠছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। হায়দরগঞ্জ মৎস্য আড়তদার মো. ইউসুফ আলী জানান, নদীতে স্রোত ও পানির অবস্থার পরিবর্তনের কারণে মাছের চলাচল আগের তুলনায় কমে গেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণেও মাছ গভীর সমুদ্রের দিকে চলে যাচ্ছে। রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হাসনাইন জানান, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের পরিমাণ কমে গেছে। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কম থাকায় লবণাক্ততা যথাযথভাবে কমছে না। বেশি বৃষ্টি হলে লবণাক্ততা হ্রাস পাবে এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে বৃষ্টিপাত বাড়লে ইলিশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
