ঝংনানহাইয়ে শুরু হলো ট্রাম্প-শি’র দ্বিতীয় দিনের বৈঠক

ঝংনানহাইয়ে শুরু হলো ট্রাম্প-শি’র দ্বিতীয় দিনের বৈঠক

ফন্ট সাইজ:

চীনের ঝংনানহাইয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ঝংনানহাইকে চীনের হোয়াইট হাউস বলা হয়। প্রায় দেড় হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই কমপ্লেক্সে রয়েছে বিশাল হ্রদ, বাগান, দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন ও সরকারি দপ্তর। শতাব্দীপ্রাচীন লাল দেয়ালঘেরা এই এলাকা চীনের সবচেয়ে গোপনীয় স্থানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অসংখ্য নজরদারি ক্যামেরা।

শুক্রবার সকালে শি জিনপিংকে ট্রাম্পের সঙ্গে ঝংনানহাইয়ের বাগানে হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় ট্রাম্পকে বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা যায়। পরে এক চীনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সরে যেতে বলেন এবং জানান, দুই নেতা ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করতে চান। ঝংনানহাইয়ের বাগানজুড়ে রয়েছে আঁকাবাঁকা পথ, চীনা ঐতিহ্যবাহী নকশার ছাদ, গোলাপি, হলুদ ও লাল রঙের গোলাপ, সবুজ লন এবং গাছপালা। স্থানটির গোলাপের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। এতে তাকে গোলাপের বীজ দিবেন বলে জানান শি।

বেইজিংয়ের ব্যস্ত পরিবেশের তুলনায় এলাকা এতটাই শান্ত যে সেখানে পাখির ডাকও স্পষ্ট শোনা যায়। ট্রাম্প পৌঁছানোর সময় ঘড়িতে সকাল ১১টা বাজার ঘণ্টাধ্বনি শোনা যায়। এক চীনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, এটি অত্যন্ত গোপনীয় একটি স্থান।

মার-আ-লাগো আতিথেয়তার প্রতিদান হিসেবেই ঝংনানহাইয়ে বৈঠক: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠকের জন্য ঝংনানহাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রতিদান হিসেবে। শি বলেন, ২০১৭ সালে মার-আ-লাগোতে আমাকে যে আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিদান হিসেবেই আমি এই স্থানটি বেছে নিয়েছি। বৈঠকে শি ও ট্রাম্পকে বড় আকৃতির ঐতিহ্যবাহী কাঠের চেয়ারেতে বসে আলোচনা করতে দেখা যায়। তাদের পেছনে ছিল অলংকৃত কাঠের প্যানেল, যেখানে আঁকা ছিল পাইন গাছ ও অর্কিড ফুল। চীনা সংস্কৃতিতে এগুলো অতিথিপরায়ণতা ও সৌজন্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০১৭ সালে ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বিলাসবহুল মার-আ-লাগো রিসোর্টে প্রথমবারের মতো শি ও ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছাড়াও জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। শি জিনপিং ট্রাম্পকে জানান, এটাই সেই স্থান যেখানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নেতারা কাজ করেন ও বসবাস করেন, আমিও এখানে থাকি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাও সেতুং, ঝৌ এনলাই, দেং শিয়াওপিং, জিয়াং জেমিন, হু জিনতাওসহ চীনের শীর্ষ নেতারা এখানে অবস্থান করেছেন। চীনে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠার পর দলীয় নেতৃত্ব ঐতিহ্যবাহী সম্রাটদের ক্ষমতার কেন্দ্র নিষিদ্ধ নগরী দখল না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, তাদের মতে নিষিদ্ধ নগরী ছিল সাম্রাজ্যবাদী শাসনের প্রতীক, যা জনগণের সেবার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ১৯৪৯ সালের আগে চীনের জাতীয়তাবাদী সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নানজিং’কে রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন