পেশা দেখে নয়, অপরাধের বিচার করি- চিফ প্রসিকিউটর

ফন্ট সাইজ:

অপরাধ করার ক্ষেত্রে কে সাংবাদিক, কে আইনজীবী, কে ডাক্তার, কে কোন পেশার সেটা দেখার কোনো সুযোগ নাই। আমরা অপরাধের বিচার করি। কোনো অপরাধী কে কোন পেশার-সেটা দেখার কোনো সুযোগ আমাদের নাই। কোনো সাংবাদিক যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন তিনিও বিচারের আওতায় আসবেন বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আগামী ৭ই জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইবুনাল-১ এ আদেশ দেন।

এদিন, পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ৬ আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রসিকিউশন বলছে, ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ ৪টি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জন নিহত হয়েছেন।

শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আমিনুল ইসলাম মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিককে ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি হেফাজতের এই ঘটনায় সারারাত মতিঝিলে ছিলেন। সেদিন তিনি বিকৃত সংবাদ প্রচার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটাকে আড়াল করেছেন। দেশবাসীর কাছে তিনি বিভিন্ন অপপ্রচার করেছেন, এটা কী কোনো সাংবাদিকতা। তৎকালীন সরকারকে ফ্যাসিস্ট করার জন্য হলুদ সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তাদের কারণে আজকে এই রাষ্ট্রটা একটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে অবিহিত হইলো, একটা সরকার ফ্যাসিস্ট সরকার হিসেবে আবির্ভূত হইলো। এসবে যদি কোনো সাংবাদিক জড়িত থাকে সেও বিচারের আওতায় আসবে। কোনো ভালো সাংবাদিক তো আর আসামি হয়নি। যারা হলুদ সাংবাদিকতা করেন, তারা যদি সেটা করে, যদি সেই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহযোগিতা করে থাকেন, যাদের কারণে এতগুলো মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কী তার বিচার চাইবেন না? এমন প্রশ্ন রাখেন চিফ প্রসিকিউটর।”

তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দোষ মানুষকে বিচারের আওতায় আনতে চাই না, আনবোও না। আবার কোনো অপরাধী যাতে পার পেয়ে না যায় সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাচ্ছি। তার যে ‘সমীকরণ’ নামের যে ফুটেজ সেই ফুটেজের মধ্যে উনি এমন ভাষা, এমন তথ্য এমনভাবে বিকৃত করেছেন তিনি তো সেখানে বলছিলেন যে, একজন মানুষেরও হতাহতের ঘটনা ঘটে নাই, নিহতও হয় নাই আহতও হয় নাই। এই বক্তব্য কী সঠিক বক্তব্য ছিল। স্পটে তো আমরা ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। ইসলামী টিভি, দিগন্ত টিভি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ তার লাইভ অনুষ্ঠান চলছে। তিনি তো একজন সাংবাদিক। নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি জাতির সামনে তুলে ধরবেন। তিনি হত্যাকাণ্ড গোপন করেছেন, তার স্বার্থ কী। এমন প্রশ্ন তুলেন চিফ প্রসিকিউটর।

কোনো ভুল প্রতিবেদন প্রকাশের দ্বারা সে কী মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুল প্রতিবেদনের জন্য আমরা তাকে অভিযুক্ত করিনি। বরঞ্চ তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা আপাতত পাওয়া যাচ্ছে যে, তিনি এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যে শাপলা চত্বরে যে ঘটনাটা ঘটবে তিনি আগে থেকেই এই টোটাল মেকানিজমের মধ্যে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ‘সমীকরণ’ রিপোর্টের মধ্য দিয়ে এটা সুস্পষ্টভাবে এটি প্রতীয়মান হয়েছে। সেটা আমরা বলছি যে, আমরা যদি তার সেখানে কোনো অ্যাবেটমেন্টের, কন্সপিরেসি পাওয়া না যায় তিনি বেনিফিট পাবেন। ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত করছে। আরও কোনো সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততা পেলে ভবিষ্যতে তাদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানান তিনি।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন