এক সপ্তাহে ৫ ডাকাতি

সোনারগাঁয়ে ডাকাতের হামলায় সুতা ব্যবসায়ী নিহত

ফন্ট সাইজ:

সোনারগাঁয়ে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নে এক রাতে তিনটি এবং জামপুর ইউনিয়নের রাউৎগাঁও ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিশপুর গ্রামে পৃথক দু’টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিশপুর গ্রামের সুতা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম (৫০) ডাকাতের হামলায় নিহত হন।

নিহত নজরুলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নজরুলের বাড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তি নাম ধরে ডাকেন এবং দরজা খুলতে বলেন। গ্রামের পরিচিত কেউ ভেবে তিনি দরজা খুলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে মুখোশ পরা দেশীয় অস্ত্র হাতে ৫-৭ জনের একদল ডাকাত নজরুল ও তার ওপর হামলা চালায়।

ডাকাতরা তাদের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। ঘরের চাবি নিয়ে ঘর থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দু’টি মোবাইল সেট ও ৬ ভরি স্বর্ণ লুট করে। এ সময় দুই ডাকাতকে চিনে ফেলায় ডাকাতরা শ্বাসরোধ করে নজরুলকে হত্যা করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতের হামলায় আহত হন শাহনাজ।
এর আগে গত ৭ই মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মীর বহরকান্দি গ্রামে ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আলিম মিয়ার ছেলে প্রবাসী আবু কালামের বাড়িতে হানা দেয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাত ভরি স্বর্ণ, দুই লাখ নগদ টাকা, পাঁচটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

পরে পার্শ্ববর্তী রমিজের বাড়িতে ডাকাত দল হানা দিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
ওই রাতেই এ ডাকাত দল পার্শ্ববর্তী চরগোয়ালদী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি শহিদুল্লাহ সরকারের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় সরকার বাড়ি ও গ্রামের লোকজন টেরে পেয়ে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার করলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় শহিদুল্লাহর বাড়িতে বাইরে থেকে অগ্নিসংযোগ করে ডাকাতরা।

এ ছাড়া, গত ১২ই মে রাতে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের রাউৎগাঁও গ্রামের রায়হান আলী ভূঁইয়ার বাড়িতে রাত ১২টার পর একদল ডাকাত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় রুমের তালা ভেঙে অস্ত্রের মুখে বাড়ির সাবাইকে জিম্মি করে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চার লাখ ৭২ হাজার নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

ডাকাতির ব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, আমি এ থানায় সদ্য যোগদান করেছি। ডাকাতিসহ সকল ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উক্ত ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ ছাড়া, ডাকাতের হামলায় নিহতের ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। একজন আটক আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আহত শাহনাজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতের লাশ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন