বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে। বিবিসি বলছে, দুই নেতার বহুল প্রত্যাশিত এই বৈঠক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে শি ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’র কথা বলেছেন।
পুরো বিশ্ব আমাদের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে উল্লেখ করে শি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে এমন এক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে, যা গত এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিঅত্যন্ত পরিবর্তনশীল ও উত্তাল জানিয়ে শি বলেন, বিশ্ব এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইডিস ট্র্যাপ কাটিয়ে সম্পর্কের এক নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারবে? আমরা সম্মিলিতভাবে কি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারব?
প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে বরং অংশীদার হওয়া উচিত উল্লেখ করে শি বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই সহযোগিতা থেকে লাভবান হয় এবং সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া শি বলেছেন, আমাদের উচিত একে অপরের সাফল্য ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং এই নতুন যুগে বড় দেশগুলোর একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে চলার সঠিক পথ খুঁজে বের করা।
‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ কী?
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই হাইভোল্টেজের বৈঠক নিয়ে এই মুহূর্তে ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ কথাটি অনেক শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে চীনের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার শীর্ষে ওঠার পর থেকে।
‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ এর অর্থ যদি সহজ কথায় বলা হয়, তাহলে এটি একটি ভয়ের পরিস্থিতিকে বোঝায়। পুরনো শক্তিশালী একটি দেশ যখন দেখে যে, নতুন আরেকটি দেশ দ্রুত উন্নতির মাধ্যমে সক্ষমতায় বা শক্তিতে তাদের সমান হয়ে যাচ্ছে, তখন পুরনো দেশটি ভয় পায়। এই ভয় থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ শব্দযুগলকে জনপ্রিয় করেছেন। দুই শীর্ষ পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বোঝাতে তিনি এটি।
দুই হাজার বছর আগের গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের কাছ থেকে অ্যালিসন এই ধারণাটি নিয়েছেন, যিনি এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে হওয়া যুদ্ধের কাহিনী লিখেছিলেন।
