চীনের শক্তিশালী হাতিয়ার বিরল খনিজ

চীনের শক্তিশালী হাতিয়ার বিরল খনিজ

ফন্ট সাইজ:

বিরল খনিজ উৎপাদনে চীনের আধিপত্য এখনও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এ হাতিয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ব্যবহার করতে পারেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিরল খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ’ বলতে ১৭টি উপাদানের একটি গ্রুপকে বোঝায়। এই বিরল খনিজ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে আইফোন পর্যন্ত নানা প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত হয়। ভবিষ্যতের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব গঠনে এসব উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

গত বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ যখন চরমে পৌঁছায়, তখন বেইজিং সাত ধরনের বিরল খনিজের ওপর লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে এসব উপাদান ও চুম্বকের রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ে। অক্টোবর মাসে চীন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে। তবে ট্রাম্প-শি বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাণিজ্য সমঝোতা হয়। তার অংশ হিসেবে এক বছরের জন্য সেই পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্থার ডি. লিটলের অংশীদার আমের হাজে শাহিন বলেন, চীনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের আগের পর্যায়ে এখনও বিরল খনিজের সরবরাহ ফিরে যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বিরল খনিজ রপ্তানির অনুমোদনের জন্য চীন যে জটিল ও সময়সাপেক্ষ যাচাই প্রক্রিয়া চালু করেছে, সেটিই ঘাটতির অন্যতম কারণ। লাইসেন্স ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, বিরল খনিজ যেন সামরিক কাজে ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করা। ফলে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে তাদের পণ্য সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার হবে না। এতে অতিরিক্ত বাধা তৈরি হয়েছে।

জিঞ্জার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের পরিচালক থমাস ক্রুমার বলেন, এই লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই কয়েক সপ্তাহব্যাপী প্রক্রিয়ার চাপের মধ্যে পড়ে গেছেন। আর্থার ডি. লিটলের বৈশ্বিক প্রাকৃতিক সম্পদ কেন্দ্রের প্রধান ইলিয়া এপিখিন বলেন, এর ফলে ইউরোপীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের হার মাত্র ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ কারণেই বিরল খনিজ এখনও চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দেশই বিষয়টি ভালোভাবে জানে। এপিখিন বলেন, চীনের হাতে বিরল খনিজের প্রভাব রয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে শুল্ক ও সেমিকন্ডাক্টর নিয়ন্ত্রণ। তাই আলোচনার মূল বিষয় হবে, কীভাবে এই দুই শক্তিকে ভারসাম্যে আনা যায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন