লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের ঐতিহ্যবাহী বাহার আলী মোল্লারহাট গরু বাজারে ইজারা স্থগিত রেখে খাস আদায়ের নামে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তহশিলদার ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র মিলেমিশে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে কাঁচা রশিদে কয়েক গুণ অতিরিক্ত হাসিল আদায় করছেন। তহশিলদারের দাবি, দলীয় লোক নয় তিনি ‘স্বেচ্ছাসেবক’ দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন এবং কোনো ভুল হলে তার দায়ভার হাট কমিটির। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাজার ছাড়ছেন ব্যাপারীরা, যার প্রভাব পড়ছে জেলার অন্যতম বৃহৎ এই পশুর হাটে। সরকারিভাবে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত হলেও দিনের পর দিন কেন কাঁচা রশিদে খাস আদায় হচ্ছে তারও কোন সদত্তর নেই। আর কাঁচা রশিদে আদায় করা টাকায় পকেট বারি হচ্ছে প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের।
জেলার অন্যতম বড় এই পশুর হাটে প্রতি সপ্তাহেই চলে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন। কিন্তু এবার এই হাট ঘিরেই দানা বেঁধেছে অনিয়ম আর দুর্নীতির পাহাড়। গত ফেব্রুয়ারিতে ৬৫ লাখ টাকা সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে ইজারা আহ্বান করা হলেও আইনি জটিলতায় তা স্থগিত করে উপজেলা প্রশাসন। স্থগিতের পর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ‘খাস’ আদায়ের কথা থাকলেও, বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আবদুম সাত্তার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট মিলেমিশে চালাচ্ছে এই খাস আদায়ে উৎসব। সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পশুর হাসিল আদায় করা হচ্ছে দায়সারা ‘কাঁচা’ রশিদে।
তহশিলদার দায় এড়াতে চাইলেও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। প্রতিটি গরু থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে, যা নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। প্রতিবাদ করলে আসে হুমকি-ধমকিসহ নানা হয়রানি। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বিক্রেতারাও। বাড়তি টাকার চাপে একদিকে নাভিশ্বাস সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে কাঁচা রশিদে আদায় করা টাকায় পকেট ভারী হচ্ছে প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তাই দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হাটে শৃঙ্খলা ফেরাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে এই বাজারে এমন অবস্থা ছিল না। এখন খাস আদায়ের নামে ব্যাপারী ও ক্রেতাদের পকেট কাটা হচ্ছে। যেখানে সরকারি মূল্য ধরা হয়েছিল ৬৫ লাখ টাকা, সেখানে খাস আদায়ের নামে প্রতি হাটে ১৫-২০ লাখ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকের আড়ালে কারা এই টাকা ভাগবাটোয়ারা করছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।
অপরদিকে বিভিন্ন মামলার অজুহাত দেখিয়ে কয়েক যুগ ধরে এ গরুর বাজার নিজেদের দখলে রাখেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। এই লুটপাটের কান্ডারি ছিলেন সে সময়ের স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা। এখনও এই গরুর বাজার সরকার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে একটি কুচক্রী মহল মামলা দেখিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। এ সুযোগে প্রশাসনও ফায়দা লুটে। এলাকাবাসীর দাবিÑ এই ঐতিহ্যবাহী গরু বাজার সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখলে সরকারের রাজস্ব উন্নয়ন হবে।
চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আবদুর সাত্তার বলেন, কমিটির মাধ্যমে খাস আদায় করা হচ্ছে। খাস আদায়ে সহায়তা করার জন্য কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রশিদে ভুল বা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে সদুত্তর নেই তার।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইজারা স্থগিত করা হয়েছে। রশিদে কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করা হবে। তবে অতিরিক্ত খাস আদায়ের কোন সুযোগ নেই। অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন এ কর্মকর্তা।
