একটি অনলাইন ফার্মেসি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের কয়েকজন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন বাজারে অবৈধ ফেন্টানাইল মিশ্রিত ওষুধ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট মঙ্গলবার জানান, এই নিষেধাজ্ঞা কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের মালিকসহ মোট ১৩ জন ব্যক্তির ওপর আরোপ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স ও এর মালিকের সঙ্গে যুক্ত ১৩ জন ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে ফেন্টানাইল মিশ্রিত ভুয়া প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রি করেছে।
পিগট আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ফেন্টানাইল পাচারের মাধ্যমে অর্থ আয় করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ফেন্টানাইলকে এক নির্বাহী আদেশে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও যৌথ প্রতিশ্রুতি মাদক চক্র ভেঙে ফেলা এবং পাচার নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার অংশ।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল দুই ভারতীয় নাগরিক এবং কেএস ফার্মেসির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের চোরাকারবারিদের সঙ্গে মিলে ভুয়া ওষুধ বিক্রি করছিল। সেসব ওষুধে ফেন্টানাইল, ফেন্টানাইল জাতীয় রাসায়নিক এবং মেথামফেটামিন মেশানো ছিল।
গত মাসে অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল আবারও ভারতের একজন ব্যক্তি সতীশ কুমার হরেশভাই সুতারিয়াকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। তিনি ফেন্টানাইল তৈরির প্রিকর্সার কেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। তার সঙ্গে যুক্ত একজন বিক্রয়কর্মী এবং ভারতের দুটি কোম্পানি- এসআর কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ও আগ্রাত কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমেও এসব লেনদেন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের মার্চে এই মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুতারিয়া ও আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
