আকাশ মেঘলা, খেলা চলছে রোদ-বৃষ্টির। এর ওপর লোকসানের কালো ছায়ায় অসহায় চিলমারীর কৃষক। সফলতার স্বপ্ন যখন দুয়ারে টোকা দিচ্ছিলো, আর সেই সময় লোকসানের কালো ছায়ায় ভেঙে গেছে কৃষকের সুখের আশা। দিশাহারা আর চিন্তিত মনেই তবুও চালিয়ে যাচ্ছে ধান কাটাই মাড়াই।
একদিকে আকাশ মেঘলা, রোদের দেখা মিললেও তা ক্ষণিকের মধ্যে হারিয়ে গিয়ে নামে বৃষ্টি। সেইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ছোবলে পড়ে চোখে অন্ধকার দেখছে হাজার হাজার কৃষক। শ্রম বাদেও বিঘাপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ফসলের সোনালী রং আর ফলনÑ সঙ্গে সরকারি দর দেখে কৃষকদের চোখে-মুখে ছিল সুখের স্বপ্ন, বুকে ছিল আশা। টানা বৃষ্টি, মেঘলা আকাশে রোদের খেলা, ধান কাটতে মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলার আগেই বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে নিজেরাই শ্রম ব্যয় করেও লাভের মুখ দেখতে না পারায় চাষিরা হতাশায় কাটাচ্ছেন। দিন-রাত শ্রম আর অর্থ ব্যয় শেষে সফলতার মুখ দেখতে চাওয়া কৃষকরা দিন দিন ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেনÑ সঙ্গে মাথা নত করতে হচ্ছে কতিপয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছেও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধানের সরকারি মূল্য কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা ধরে ১ হাজার ৪৪০ টাকা মন হলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে ধার-দেনা পরিশোধ করতে ৭শ’ থেকে ৭৫০ টাকা মন দরে ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।
বরাবরেই চাষিরা সফলতার স্বপ্ন বুনলেও তা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে লোকসান গুনে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে বললেন কৃষক রতন, মোখলেছসহ অনেকে। ‘বাহে হামরা সব সময় অবহেলিত’ মন্তব্য করে কৃষক খয়বর হোসেন জানান, সরকারি মূল্য অবশ্যই ভালো এবং লাভজনকÑ কিন্তু আমরা তো সেই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি না। তিনি আরও বলেন, আমাদের কৃষকদের কি ধান শুকানোর চাতাল আছে নাকি রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা আছে আর গুদামে ধান নিয়ে গেলে ওদের কতো আইন আর অজুহাত শুনে ঘুরতে ঘুরতে ব্যবসায়ীর হাতেই কম দামে তুলে দেয়া লাগে। কৃষক ইউনুছ বলেন, ধান চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকাÑ আর বর্তমানে বিক্রি করলে মিলছে ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা সেটিও নিজের শ্রম বাদে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে। ইতি মধ্যে ৫০ শতাংশ জমির ধান কর্তন করা হয়েছে আর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৭২২ টন ধান। কৃষকদের অসহায়ের কথা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছেন, তবে আমরা চেষ্টা করছি চিলমারীতে ধান ক্রয় শুরু হলে কৃষকরাই যেন ধান দিতে পারে এবং লাভবান হয়।
