কুমিল্লার তিতাসে আধিপত্য বিস্তার, পূর্ব বিরোধ ও যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লা হত্যা মামলার আসামি আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৪৫) নামে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লতিফ উপজেলার মানিককান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভূঁইয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার পক্ষের সঙ্গে একই এলাকার সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলামের লোকজনের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এর জেরে গত ২০২২ সালের ৬ই ডিসেম্বর আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ও ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। সমপ্রতি সে জামিনে কারামুক্ত হয়ে তিনদিন আগে এলাকায় ফেরেন। গত সোমবার রাতে মানিককান্দি গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে তাকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং পায়ের রগ কেটে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় লতিফকে উদ্ধার করে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহত লতিফের ছোট ভাই মামুন জানান, গত সোমবার রাতে মানিককান্দি সরকারি বাড়ি মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হয়ে বাড়ি আসার সময় আবু কালামের ছেলে ফাহিমের নেতৃত্বে ৭-৮ জন আমার ভাইকে রাস্তায় আটকিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে এবং পরে তারা আমার ভাইয়ের পায়ের রগ কেটে দেয়, তিতাস হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার গুরুতর আহত অবস্থায় লতিফকে পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করে পঙ্গু হাসপাতাল নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করে ডাক্তার আমার ভাইকে।
তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত লতিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ঢাকা নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
