নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের বারদুয়ারি গ্রামের তাবাসসুম। জন্মগতভাবে হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে জন্ম হলেও মাত্র কয়েক মাস আগে ধরা পড়ে তার জটিল এই রোগ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত অপারেশন না করালে বাঁচানো সম্ভব নয়। আর এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। কিন্তু অর্থাভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা। তাবাসসুম জানান, অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয়। ঘরে ১ বছরের একটা সন্তান রয়েছে। কয়েক মাস আগে অসুস্থ হলে তিনি ডাক্তারের কাছে যান। এরপরই জানতে পারেন জন্মগতভাবে তার হৃৎপিণ্ডে ছিদ্রের কথা। তিনি বলেন, এ খরচ আমার পরিবারের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তবে ছোট ছেলেটির জন্য আমি বাঁচতে চাই। একমাত্র সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলেই আমার চিকিৎসা সম্ভব।
তাবাসসুমের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাবা শেখ সোরাফ আলীর। ৬৮ বছর বয়সী এ মানুষটি দীর্ঘ এক যুগ ধরে অন্ধত্ব ও বার্ধক্যজনিত কারণে শয্যাশায়ী। পরিবারের কোনো উপার্জনের পথ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে পুরো পরিবার। তবুও মেয়েকে বাঁচাতে সকলের সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন এই অসহায় বাবা। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা সালমা আক্তারও। তিনি নিজেও গলা ও ফুসফুসের সমস্যাসহ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। অন্যদিকে, পরিবারের ছোট ছেলে ইব্রাহীম জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। স্থানীয়রা জানান, এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় কোনোমতে চলছে সোরাফ আলীর সংসার।
তবে এত টাকা জোগাড় করা কষ্টসাধ্য। তাবাসসুমের চিকিৎসায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এলাকাবাসী। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবারটি এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহযোগিতা পায়নি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হিজবুল্লাহ পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সবুজ মিয়া বলেন, এতদিনেও অসহায় পরিবারটি সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া দুঃখজনক। আশা করি, তারা দ্রুত সরকারি সকল ধরনের সহযোগিতার আওতায় আসবে। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, এ ধরনের পরিবার অবশ্যই সহযোগিতা পাবে। খোঁজ নিয়ে পরিবারটির পাশে থাকার কথা জানান তিনি।
