রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০২২ সালে শুরু হওয়া দীর্ঘ এই যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুতিন ৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাৎসিদের সঙ্গে বিজয় দিবস উদযাপনের ভাষণে যুদ্ধ থামানোর বিরল বক্তব্য রাখেন। পুতিন তার চিরচেনা রূপ থেকে সরে এসে এই ঘোষণা দিলেন যেখানে পূর্বে তিনি বারবার এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে- লক্ষ্য অর্জন ছাড়া যুদ্ধ শেষ করবেন না। ক্রেমলিন তার লক্ষ্য অর্জন থেকে বহু দূরে। তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দনবাস দখল করতে চেয়েছিলো এবং দেশটির সামরিক শক্তি খর্ব করতে চেয়েছিলো। সুর নরম করে পুতিন এখন জানাচ্ছেন তিনি যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ায় ক্ষোভ বৃদ্ধি পাওয়ায় পুতিনকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে।
চমকপ্রদ চাওয়া পুতিনের
পুতিন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে পছন্দ করেছেন ইউরোপের সঙ্গে আলোচনার জন্য। তিনি এর আগে রাশিয়ার নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনের বোর্ড চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানো শুরু করলে তিনি পদ থেকে সরে যান। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল অব্দি চ্যান্সেলর থাকা শ্রোয়েডারকে পুতিনের ঘনিষ্ট বলে ধারণা করা হয়। এদিকে ইইউ এ বিষয়ে জানিয়েছে এটি ঐক্য ভঙ্গের একটি চাল ক্রেমলিনের। ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে চায় বলে জানিয়েছে পুতিন। তিনি অভিযোগ করেন ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভঙ্গের সময় কথা ছিলো ন্যাটো পূর্বদিকে আর সম্প্রসারিত হবে না। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেই কথা রাখেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত ন্যাটোতে যুক্ত হতে চায় ইউক্রেন। এতে ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া।
কেন যুদ্ধের শেষ চান পুতিন?
চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়া যুদ্ধ থেকে নতুন কিছু অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। কিয়েভের অনমনীয় মনোভাবের কারণে ক্রেমলিন নতুন করে যুদ্ধকৌশল ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। সেনা সংকট, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক চাপ, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সংকট রাশিয়াকে নেতিবাচক স্থানে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও ইউক্রেনেরও সেনা সংকট রয়েছে তবে তারা ড্রোন এবং রোবট সেনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধাপন খুঁজে পেয়েছে। রণক্ষেত্রে রোবট ও ড্রোন ভালো ফলাফল বয়ে আনছে। রাশিয়া প্রযুক্তিগতভাবে ইউক্রেনের সঙ্গে পাল্লা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সংঘাত মোকাবিলায় ইউক্রেনের দিকে ছুটে গিয়েছে। ড্রোন হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন দেশটির প্রধান, ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়া আগে ইরানি প্রযুক্তির শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালাতো ইউক্রেনে। যা প্রতিহত করতে কার্যকর সস্তা উপায় বের করে কিয়েভ। দীর্ঘ যুদ্ধে বিতৃষ্ণ রাশিয়ার নাগরিকরা। সব মিলিয়ে পুতিনের কাছে এখন যুদ্ধ শেষ করাই অধিক লাভজনক।
