সিলেটে চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা কওমি মাদ্রাসা পরিষদের

ফন্ট সাইজ:

দেশীয় বাজারে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য ক্রমাগত কমে যাওয়ায় চলতি বছর চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলো। মাদ্রাসা পরিষদের দাবি- বর্তমানে চামড়া সংগ্রহে পরিবহন ও সংরক্ষণ বাবদ যে ব্যয় হয়, সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করেও সেই অর্থ উঠে আসে না। ফলে চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম এখন মাদ্রাসাগুলোর জন্য আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে। সোমবার সিলেট বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ নগরীর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুস্তাক আহমদ খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। গত বছর কওমি মাদ্রাসাগুলোকে কাঁচা লবণ সরবরাহের উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক ও অকার্যকর’ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে আগে দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

মাওলানা মুস্তাক আহমদ খান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চামড়া শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনাতেও এ শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হতাশ হয়েছে। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া মূলত গরিব ও এতিমদের হক। দেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

কোরবানির সময় মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমী মাদ্রাসাগুলোর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তাই দ্রুত চামড়া খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী (রেঙ্গা মাদ্রাসা), মাওলানা মঞ্জুর আহমদ (রেঙ্গা মাদ্রাসা), মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ (দরগাহ মাদ্রাসা), মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী (দারুস সালাম মাদ্রাসা), মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন