নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, গত ৩রা মে বরুনা গ্রামের প্রদীপের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে মানিক দত্তের প্রাইভেটকারের সঙ্গে একই এলাকার আলালের অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলাল তার সমর্থকদের নিয়ে মানিক দত্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় মানিক দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হলে তারা প্রাণভয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন সোমবার মানিক দত্তকে আশ্রয় দেয়ার জেরে আলাল, তার ভাই বিল্লাল, মোমেনসহ তাদের লোকজন আলতাফ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি আলতাফের ভাতিজা রিপন ও আমজাদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে থানা বিএনপি ও স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সোমবার বরুনা কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহতদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ওসি দাবি করেন, প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেখানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
