কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু-মহিষ পাচার বেড়ে গেছে। সীমান্ত জুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র। টেকনাফ সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার হওয়ায় বর্তমানে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা। কক্সবাজারের গর্জানিয়া, রামু, ঈদগড়সহ নাইক্ষ্যংছড়ির কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। গর্জনিয়া পশুর হাটে জটিলতায় কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে কচ্ছপিয়া হাটে চোরাই পশুর উপস্থিতি বেড়েছে। চাকঢালা বাজারের রসিদ ব্যবহার করে নিয়মিত এসব গরু-মহিষ পাচার করা হচ্ছে এবং টোকেন গ্রহণের মাধ্যমে অনেকটা বৈধতার রূপ দেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা, ফুলতলীসহ আরও কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পাহাড়ি রুট ব্যবহার করে রাতের আঁধারে গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসব বার্মিজ গরু মজুত করা হয় কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বামহাতির ছড়া, দোছড়ি, মাঝেরকাটা, জোয়ারিয়ানালা ও ভালুকখাইয়া এলাকায়। পরে এসব পশু স্থানীয় অস্থায়ী খামারে রেখে শরীরের চিহ্ন মুছে মালিক সাজিয়ে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া পশুর হাটে তোলা হচ্ছে। এরপর দেশীয় পশুর পরিচয় দিয়ে কক্সবাজারের রামু, গর্জনিয়াসহ বিভিন্ন পশুর হাটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় খামারিরা।
স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চোরাই পথে আসা গরু-মহিষ কম দামে বিক্রি হওয়ায় দেশীয় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একইসঙ্গে যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টিন ছাড়াই পশু প্রবেশ করায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা।
ফুলতলী এলাকার বাসিন্দা আবদুর করিম বলেন, রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে গরু-মহিষ আনা হয়। পরে খামারে রেখে চিহ্ন মুছে দেশীয় পশু হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হয়। কম দামে পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ঝুঁকি নিয়েও এসব পশু কিনছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আনা বেশ কয়েকটি গরু জব্দ করা হয়েছে। সীমান্ত জুড়ে সক্রিয় চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি জানান।
