বৃটেনের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টিতে বিদ্রোহ। আজ সোমবারই নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ভাগ্য। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে স্থানীয় নির্বাচনে দলের ভয়াবহ ভরাডুবির পর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন দলীয় ৪০ জন এমপি। তার মধ্যে কিয়ের স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক মন্ত্রী জশ সিমন্স অন্যতম। স্টারমারকে দলের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে নতুন বেশ কিছু মুখ আসার জন্য উঁকি দিচ্ছেন। তারা এরই মধ্যে প্রকাশ্যে কথাও বলেছেন।
স্টারমারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জশ সিমন্স বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। শুধু তিনি একা নন, দলের কমপক্ষে ৪০ জন এমপি স্টারমারের পদত্যাগের দাবিতে একজোট হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে আরও আট বছর থাকতে চান। অর্থাৎ তিনি এ সময় ক্ষমতায় থাকতে চান এবং যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
এতে আরও বলা হয়, কিয়ের স্টারমার আজ সোমবার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার শেষ সুযোগের মুখোমুখি। কারণ দলের ভেতরে বিদ্রোহ তীব্র আকার নিয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা নেতৃত্ব দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা।
এক বিস্ফোরক হস্তক্ষেপে উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যানজেলা রেইনার প্রকাশ্যে এসে স্টারমারের শাসনকালকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি একটি বিস্তৃত নীতি-প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছেন। তাতে তিনি দলকে আরও বামঘেঁষা অবস্থানে নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে আবার পার্লামেন্টে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেয়া উচিত এবং তার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, যদি স্টারমার ক্ষমতা হারান, তবে তিনি নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে প্রস্তুত। তাদের ধারণা, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভয়াবহ ফলের পর যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুতই স্টারমারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিদ্রোহে রূপ নিতে পারে। এতে দল ভেঙে নতুন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যেখানে সাবেক নেতা এড মিলিব্যান্ডও প্রার্থী হতে পারেন।
স্টারমার আজ সোমবার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন, যা অনেকের মতে তার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা। তিনি বলতে যাচ্ছেন- আমরা বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব এবং বড় রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে আনব। তবে তিনি ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত না করতে পারলে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক-পঞ্চমাংশ লেবার এমপি তাকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন। নতুন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্টের নামও সামনে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, স্টারমারের বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ দেবেন কি না। লেবার পার্টির ভেতরে বামঘেঁষা অংশ বলছে, কোনো প্রাসাদ ষড়যন্ত্র বা পর্দার আড়ালের নেতৃত্ব পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়। তারা চান একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা।
দলীয় অভ্যন্তরে ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়, যেখানে লেবার প্রায় ১৫০০ কাউন্সিলর পদ হারিয়েছে এবং ওয়েলসের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেত ফিলিপসন স্বীকার করেছেন যে জনগণ লেবার সরকারের ওপর গভীরভাবে হতাশ। তিনি বলেছেন, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কাটার মতো সিদ্ধান্ত জনসমর্থনে বড় ক্ষতি করেছে, তবে কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই সমস্যা সমাধান হবে না।
অন্যদিকে অ্যানজেলা রেইনার তার দীর্ঘ বিবৃতিতে বলেন, লেবার পার্টি ভাঙা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দলকে এখনই শ্রমজীবী মানুষের দিকে ফিরে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, বড় পরিবর্তন ছাড়া এই পরিস্থিতি বদলাবে না, শুধু সামান্য নীতি পরিবর্তনে হবে না। তিনি স্টারমারকে সতর্ক করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এখনই জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলিয়ে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে হবে। এই অবস্থায় লেবার পার্টি এখন এক গভীর নেতৃত্ব সংকটের দিকে যাচ্ছে, যেখানে আজকের দিনটি স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
