থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। আদালতের এক রায়ে বলা হয়, জেল এড়াতে তিনি অন্যায়ভাবে হাসপাতালে অবস্থান করেছিলেন। সেই বিতর্কের মধ্যেই প্রায় আট মাস কারাভোগের পর তাকে মুক্তি দেয়া হলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ৭৬ বছর বয়সী এই ধনকুবের প্রায় ২৫ বছর ধরে থাই রাজনীতিকে পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তবে কারাবরণের পর তার রাজনৈতিক প্রভাব কিছুটা কমে গেছে। চলতি বছরের নির্বাচনে তার দল ফেউ থাই পার্টি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলও করেছে। ছোট করে কাটা চুল ও সাদা সাধারণ শার্ট পরা থাকসিন স্থানীয় সময় সোমবার সকাল প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে কারাগার থেকে বের হন।
সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে ধরেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিলেন তার মেয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা। তাকে গত আগস্টে আদালতের আদেশে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। সোমবার ভোর থেকেই ক্লং প্রেম সেন্ট্রাল কারাগারের বাইরে জড়ো হওয়া শত শত সমর্থক ‘উই লাভ থাকসিন’ স্লোগান দিতে থাকেন। সাজাভোগের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শেষ করার পর তিনি প্যারোলে মুক্তি পান।
১৫ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর থাকসিন ২০২৩ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে স্বার্থের সংঘাত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে থাইল্যান্ডের রাজা সেই সাজা কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনেন। তবে কারাগারে তিনি মাত্র কয়েক ঘণ্টা ছিলেন। হৃদরোগের সমস্যার কথা বলে তাকে দ্রুত হাসপাতালের ভিআইপি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, থাকসিনকে ওই সময় কারাগারেই কাটাতে হবে। আদালত বলেছিল, তিনি ও তার চিকিৎসকরা অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালে থাকার সময় বাড়িয়েছিলেন। এখন বাকি সাজা চলাকালে তাকে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কল মনিটর পরতে হবে।
