স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় জামিনে মুক্ত নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি

স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় জামিনে মুক্ত নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি

ফন্ট সাইজ:

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদিকে স্বাস্থ্যগত আশঙ্কার মধ্যে জামিনে মুক্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার তাকে চিকিৎসার জন্য তেহরানে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। উত্তর ইরানের জানজানে ১০ দিন হাসপাতালে থাকার পর মোহাম্মাদির ‘মোটা অঙ্কের জামিনের বিনিময়ে সাজা স্থগিত করা হয়েছে’ বলে তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। তবে জামিনের অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফ্রান্স ২৪। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তেহরানের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেখানে তার নিজস্ব মেডিকেল টিম চিকিৎসা দেবে।

গত সপ্তাহে তার সমর্থকরা সতর্ক করে বলেন, ইরানে মানবাধিকার আন্দোলনে দীর্ঘদিনের ভূমিকার জন্য ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া নার্গিস মোহাম্মাদি কারাগারেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছেন। জানজান কারাগারে আটক অবস্থায় তিনি দু’বার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্যারিসভিত্তিক তার স্বামী তাঘি রাহমানি এক বিবৃতিতে বলেন, নার্গিস মোহাম্মাদির জীবন এখন সংকটের মুখে। তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের পর তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু সাময়িক স্থানান্তর যথেষ্ট নয়। যেসব পরিস্থিতি তার স্বাস্থ্য ভেঙে দিয়েছে, সেখানে তাকে আর কখনো ফেরত পাঠানো উচিত নয়।

মোহাম্মাদির ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তার বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং তার সাজা হিসেবে বাকি থাকা ১৮ বছর কারাভোগের জন্য যেন তাকে আর কখনো কারাগারে ফিরতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার ইরানি আইনজীবী মোস্তফা নিলি এক্সে লিখেছেন, চিকিৎসার জন্য সাজা স্থগিতের নির্দেশের পর রোববার তাকে তেহরানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

৫৪ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মাদি দুই দশকের বড় অংশই মানবাধিকার আন্দোলনের কারণে কারাগারে কাটিয়েছেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে এক আইনজীবীর জানাজায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমালোচনা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। তার সমর্থকদের দাবি, তিনি ২৪ মার্চ এবং ১লা মে জানজান কারাগারে দু’বার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সর্বশেষ অসুস্থতার পর তাকে জানজানের হাসপাতালে নেয়া হলেও কড়া নিরাপত্তা পাহারায় রাখা হয়।

প্যারিসভিত্তিক তার আইনজীবী শিরিন আরদাকানি গত সপ্তাহে বলেন, কারাগারে মোহাম্মাদির ওজন ২০ কেজি কমে গেছে। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগের অবস্থার সঙ্গে এখন তাকে চেনাই যাচ্ছে না।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধও তার অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছে। তার কারাগারের কাছাকাছি অন্তত তিনটি বিমান হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২২-২০২৩ সালের বিক্ষোভে নার্গিস মোহাম্মাদি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ইরানি কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ওই আন্দোলন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বড় বিক্ষোভের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব এবং মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচারণার পাশাপাশি, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের পূর্বাভাসও নিয়মিত দিয়ে আসছিলেন তিনি। নার্গিস মোহাম্মাদির যমজ কিশোর সন্তান আলি রহমানি ও কিয়ানা রহমানি বর্তমানে প্যারিসে বসবাস ও পড়াশোনা করছেন। তারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের মাকে দেখেননি। মোহাম্মাদি কারাগারে থাকাকালে তার পক্ষ থেকে তারাই নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন