সমঝোতায় ইরানের নতুন শর্ত, প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

সমঝোতায় ইরানের নতুন শর্ত, প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, তেহরানের শর্তগুলো ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। ফলে কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর আবারও সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের ভেতরে ইরান যুদ্ধ শেষ করার চাপের মুখে থাকা ৭৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যা যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ ছিল, তা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কিছু শর্ত তুলে ধরে। তার মধ্যে ৯টি প্রধান শর্ত আছে। তা হলো- মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান, তেল রপ্তানিতে পূর্ণ স্বাধীনতা, লেবাননে যুদ্ধবিরতি, সব নিষেধাজ্ঞার সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ, জব্দ করা সব ইরানি সম্পদ মুক্ত করে দেয়া, ইউরেনিয়ামের একটি অংশ পাতলা বা নিম্নমাত্রায় রূপান্তর করা, বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হবে (যুক্তরাষ্ট্রে নয়), তবে এমন কঠোর গ্যারান্টি থাকতে হবে যাতে আলোচনা ভেঙে গেলে বা যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গেলে তা ইরানকে ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৩০ দিন পর পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে, তার আগে নয়।

এই প্রস্তাবে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানের এই প্রস্তাবের জবাবে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন। তবে তিনি নিজে তেহরানের পাল্টা প্রস্তাবের বিস্তারিত জানাননি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সংক্ষিপ্ত এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি বলেন, আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। আমার এটা পছন্দ হয়নি- সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য!

সাংবাদিক শ্যারিল অ্যাটকিসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি করছে এবং কেউ সেখানে গেলে ওয়াশিংটন তা জানতে পারবে ও উড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, আমরা একসময় সেটা নিয়ে নেব। যখনই চাইব। আমরা নজরদারিতে রেখেছি। আমি স্পেস ফোর্স নামে একটি ব্যবস্থা করেছি, তারা সবকিছু দেখছে। কেউ ওই স্থানের কাছে গেলেই আমরা জানতে পারব। আর আমরা তাদের উড়িয়ে দেব।
মার্কিন নজরদারি সক্ষমতার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যদি কেউ সেখানে ঢোকে, তারা (স্পেস ফোর্স) তার নাম, ঠিকানা, এমনকি ব্যাজ নম্বরও বলে দিতে পারবে।

ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে তারা প্রতিশোধ নিতে পিছপা হবে না এবং হরমুজ প্রণালিতে আর কোনো বিদেশি যুদ্ধজাহাজ চলাচল করতে দেবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তেহরান মার্কিন পাল্টা প্রস্তাবকেও ‘আত্মসমর্পণের সমান’ হিসেবে বিবেচনা করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, তারা চায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ ইরানি সার্বভৌমত্ব, নিষেধাজ্ঞার অবসান এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদের মুক্তি।

উল্লেখ্য, ইরানের শর্তের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো ইউরেনিয়াম নিয়ে। এই ইউরেনিয়ামকে কেন্দ্র করে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালায়। তা ছাড়া লেবানন সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিয়েছে তারা। এখন ইরানের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করায় নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও প্রকাশ্যে ইরান তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে লিখেছেন, আমরা কখনো শত্রুর সামনে মাথা নত করব না। আলোচনা বা সংলাপের কথা বললেই তা আত্মসমর্পণ বা পিছু হটা বোঝায় না। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যৌথ সামরিক কমান্ডের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে অভিযান অব্যাহত রাখা এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।

ওদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে না নেয়া এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত সংঘাত শেষ হবে না। সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটা শেষ হয়নি। কারণ এখনও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ইরান থেকে বের করে নিতে হবে। এখনও এমন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো ধ্বংস করতে হবে। ইউরেনিয়াম কীভাবে সরানো হবে, এমন প্রশ্নে নেতানিয়াহু বলেন, আপনি সেখানে ঢুকবেন এবং সেটা বের করে আনবেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন