লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও অনেক গ্রাহক সংযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দ্রুত সংযোগ এবং লোড বৃদ্ধি অনুমোদনের অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের তার সংকট, ট্রান্সফরমার বরাদ্দ না থাকা, নতুন মিটার না আসা, অনলাইন আবেদনে ত্রুটি, জমির খতিয়ান জটিলতাসহ নানা অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে অবৈধ ইটভাটা ও বহুতল ভবনের মালিকরা অল্প সময়ের মধ্যেই সংযোগ ও লোড বৃদ্ধি পাচ্ছেন।
আশারকোটা গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন গত বছরের ৪ঠা মে নতুন সংযোগের জন্য অনলাইনে আবেদন করলেও জমির খতিয়ানে পিতার নাম থাকায় এখনো সংযোগ পাননি। একইভাবে পৌর কর্মচারী পিন্টু, আরিছপুর গ্রামের মাকসুদুর রহমান, আগুনখীল গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ, রতনপুর গ্রামের মাহাবুবুল রহমান এবং পশ্চিম অভিরামপুর শাহ জামে মসজিদ কমিটিসহ অনেক আবেদনকারী দীর্ঘদিনেও মিটার পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের ১২টি সংযোগের আবেদনও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে।
পৌরসভার অ্যাপোলো হাসপাতাল, রতনপুর গ্রামের বেলায়েত মাস্টার ও সোনাপুর কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও ট্রান্সফরমার সংকট দেখিয়ে সংযোগ না দেয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, গোপন চুক্তির মাধ্যমে আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন স্থান এবং সোনাপুর চৌরাস্তায় পাশে তিনটি সাড়ে ৩৭ কেভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হলেও দুই মাসেও সংযোগ চালু হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চুক্তির টাকা পরিশোধ না হওয়ায় কাজ আটকে রয়েছে। এদিকে লাইসেন্স না থাকলেও কয়েকটি ইটভাটায় সংযোগ ও লোড বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মদিনা ব্রিকস ফিল্ড, মদিনা-২ ব্রিকস ফিল্ড ও মেঘনা ব্রিকস ফিল্ডে ব্যাপক লোড বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান ফয়েজ অভিযোগ করে বলেন, বিধি অনুযায়ী সাধারণ গ্রাহকরা সেবা পাচ্ছেন না। টাকা দিলে সব কাজ দ্রুত হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর শিমুল বড়ুয়া বলেন, কেউ আমাকে টাকা দেয় না। গ্রাহকরা অনলাইনে আবেদন করলে সিরিয়াল অনুযায়ী মিটার পাচ্ছেন। রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহিন রেজা ফরাজী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর ১২টি আবেদনের মধ্যে ৬টি অনুমোদন হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ আসেনি। গ্রাহকরা শর্ত পূরণ না করায় সংযোগ পাচ্ছেন না। বিধি অনুযায়ী যে কেউ লোড বৃদ্ধির আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হয়।
