তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে এসে বাজিমাত করে তিনি এখন রাজ্যের প্রধান। বিজয় বিশেষ করে থালাপতি বিজয় নামেই বেশি পরিচিত। রোববার রাকভবনে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এরপর প্রথম ভাষণে নিজেকে ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, কোনো রাজবংশ বা অভিজাত পরিবার থেকে আসা নন বলেই জনগণ তাকে এবার গ্রহণ করেছে। ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা কাম রাজনীতিবিদ বলেন, তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করবেন না এবং বাস্তব, ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ গড়ে তুলবেন। তিনি জনগণের কাছে তার কাজ মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় দেয়ার আহ্বান জানান।
বিজয় বলেন, এখানে আমার বাইরে কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। আমি একাই ক্ষমতার কেন্দ্র হব। তিনি আরও জানান, তাকে ‘মামা’ ও ‘তাম্বি’ নামে ডাকা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেছেন এবং তার সরকার সম্পূর্ণভাবে দায়বদ্ধ থাকবে। তার এই মন্তব্যকে অনেকেই এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে) নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো জোট শরিকের চাপের অধীনে থাকবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের সঙ্গে মিলেই জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬২৪ কোটি রুপি। এর মধ্যে ২১৩ কোটি রুপি সঞ্চয় হিসাব এবং ১০০ কোটি রুপি বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রয়েছে। বিজয় জানান, স্বচ্ছতার স্বার্থে তিনি রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করার কথা বিবেচনা করবেন। তার নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৯ জন মন্ত্রী রয়েছেন। সেখানে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশ্রণ দেখা গেছে। প্রথম দফার সিদ্ধান্তে গৃহস্থালির জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।
মন্ত্রিসভায় প্রবীণ নেতা কে এ সেনগোত্তাইয়ান এবং তরুণ মুখ ডা. টি কে প্রভু ও এস কীর্তনা স্থান পেয়েছেন। এছাড়া এডাভ অর্জুনা, এন আনন্দ, আর নির্মল কুমার এবং কে জি অরুণরাজও শপথ নেন। তবে কংগ্রেস, যারা সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকে’কে প্রথম সমর্থন দিয়েছিল, তাদের কোনো নেতা নতুন তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
