বৃটিশ এক নারী সেলিব্রিটির শীর্ষ ক্রীড়াতারকার সঙ্গে সম্পর্কের খবর ফাঁস হয়েছে। তাদের হাজারো ঘনিষ্ঠ ছবি ও বার্তা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন শীর্ষস্থানীয় নারী সেলিব্রিটির কথিত প্রেমের সম্পর্ক এটি। অভিযোগ করা হয়েছে, একজন খ্যাতনামা ক্রীড়াতারকার সঙ্গে তার সম্পর্কের হাজার হাজার ঘনিষ্ঠ বার্তা ও ছবি অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। ওই নারীকে একজন ‘উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিত্ব ও উদ্যোক্তা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি একজন বৃটিশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
অভিযোগ রয়েছে, এক সাইবার অনুসরণকারী বা ‘সাইবারস্টকার’ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে তার ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করে। সেখান থেকে তার মোবাইল ফোনের প্রায় ৯০ হাজার স্ক্রিনশট চুরি করে। জানা গেছে, সাইবারস্টকার তথ্যগুলো ভুলভাবে সংরক্ষণ করায় সেগুলো অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায় এবং যে কেউ তা দেখতে পারছিল।
মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক জেরেমায়া ফাউলার অভিযোগ অনুযায়ী এই ফাঁস হওয়া তথ্য খুঁজে পান। বলা হচ্ছে, তথ্যগুলো অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে অনলাইনে ছিল। চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে ইনভয়েস ও রসিদ ছাড়াও ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকের ব্যক্তিগত চ্যাট ও সেলফিও আছে। জেরেমায়া ওই নারীর পরিচয় গোপন রেখেছেন। কারণ, ফাঁস হওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে যে তিনি এক ‘পরিচিত ক্রীড়াবিদের’ সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত।
তিনি দ্য সান অন সানডেকে বলেন, তারা দু’জনই বিবাহিত। সেখানে থাকা তথ্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারত। তিনি আরও বলেন, এ সম্পর্কের তথ্য আগে কখনও গণমাধ্যমে আসেনি। কিন্তু ফাইলগুলো এত দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত ছিল যে অন্য কেউ সেগুলো দেখে থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রকাশ করতে পারে বা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। জেরেমায়া আরও বলেন, আমি ইমেইলের মাধ্যমে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। ভুক্তভোগীকেও জানানো হয়েছে। তবে তিনি পুলিশে গেছেন কি না, তা আমি জানি না। ডেইলি মেইল এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জেরেমায়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
বৃটেনে বেআইনিভাবে স্টকারওয়্যার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালের প্রোটেকশন ফ্রম হ্যারাসমেন্ট অ্যাক্ট-এর আওতায় মামলা করা যেতে পারে। এক্সপ্রেস ভিপিএনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে জেরেমায়া লিখেছেন, এ ঘটনায় সেলিব্রিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের মতো পরিচিত ব্যক্তিরা জড়িত থাকলেও মূল সমস্যা শুধু তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আরও লিখেছেন, এ ধরনের ঘটনায় ব্যবহৃত একই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, হয়রানি ও অনুসরণমূলক কর্মকাণ্ডেও ব্যবহৃত হচ্ছে। তার ভাষায়, এ তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো স্টকারওয়্যারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
তিনি বলেন, এ ধরনের সফটওয়্যার কী কী তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ দেখানোর মাধ্যমে পাঠকরা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ভয়াবহতা, নিজেদের সুরক্ষার উপায় এবং এর সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
