ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পোড়াবাড়ী সড়ক থেকে অলহরী ব্রিজ হয়ে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে নিম্নমানের কাজ করা হলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরজমিন দেখা যায়- সড়কের বেজ স্তরে ব্যবহার করা হচ্ছে তৃতীয় শ্রেণির ইটের খোয়া, রাবিশ ও নিম্নমানের উপকরণ। পরে লোক দেখানোভাবে ওপরে কিছু ভালো মানের খোয়া ছিটিয়ে রোলার চালিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- শুরু থেকেই সাব-বেজ ও বেজ স্তরে প্রকল্পের নির্ধারিত মান ও অনুপাত উপেক্ষা করে দায়সারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৌশল বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম সম্ভব নয়। অভিযোগ উঠলেই সাময়িকভাবে কিছু নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পরে আবারো একইভাবে কাজ চলতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা নাদিরুজ্জামান লিটন বলেন, এটা উন্নয়ন প্রকল্প নয়- প্রকাশ্য লুটপাট।
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ কর্মকর্তারা সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের মে মাসে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামসুল হুদা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন যদি নিম্নমানের সামগ্রীই না থাকে, তাহলে অপসারণের নির্দেশ কেন। উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদারকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী আনা হয়েছিল, পরে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। খারাপ কাজ করে বিল নেয়ার সুযোগ নেই।
