রাণীনগরে জাল দলিলে ৩০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি গ্রাসের চেষ্টা

ফন্ট সাইজ:

নওগাঁর রাণীনগরে সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট রাষ্ট্রের সম্পত্তি গ্রাস করতে বেপরোয়া তৎপরতা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে কুজাইল হাট-বাজার, খেলার মাঠ, মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, গবাদিপশুর খামার ও পুকুরসহ প্রায় ৩৭ একর সরকারের ব্যাণিজিক সম্পত্তি দখলের সুপরিকল্পিতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. সাহিদা সুলতানা? বাদী হয়ে কুজাইল গ্রামের মৃত-নমির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে একেএম শামসুল হক ঝন্টু, একেএম শহিদুল আলম টুকু ও রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মাসুম খানসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে।

মামলা সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার কাশিমপুর রাজবাড়ির জমিদার অন্নদা প্রসন্ন লাহিড়ী ভারত বর্ষে চলে যাওয়ার সময় তার সম্পত্তি হস্তান্তর, বিলি বণ্টন, দান, বিক্রয়, বিনিময় না করে এবং কোনো ওয়ারিশ না রেখেই সব সম্পত্তি নিষ্কণ্টকভাবে রেখেই সপরিবারে ভারতে চলে যায়। পরে শত শত বিঘা জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের “ক” তপশিলে গেজেটভুক্ত হয়। পরে ভূমিগুলো দখলে নিতে একটি ভূমিদস্যু চক্র নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের উদয়শ্রী মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরীর নামে ১৯৬৭ সালের ১৬ই নভেম্বর একটি জাল দলিল সৃষ্টি করে। কিন্তু মজার বিষয় হলো ১৯৬৫ সালের পরে দেশে আর কোনো বিনিময় দলিল হয় না।

দ্বিতীয় ধাপে ৪টি জাল দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে কুজাইল গ্রামের একেএম শামসুল হক ঝন্টু ও একেএম শহিদুল আলম টুকু, দুর্গাপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম নাহিদ, জাহানারা বিবি ও রোকেয়া বিবির নিকট হস্তান্তর করে। তবে গ্রহীতা আমিরুল ইসলাম নাহিদের জন্ম ১৯৭৫ সালে হলেও জন্মের আগেই কীভাবে তার নামে দলিল করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে মামলা চলাকালে বাদীপক্ষের কাগজপত্রে সন্দেহজনক হলে সরকার প্রথমে মালিকানা যাচাই করার উদ্যোগ নেয়। ধামইরহাট উপজেলার খেলনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক ২০২৪ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের (ভিপি শাখা) কার্যালয়ে প্রেরিত যাচাই করা চিঠিতে উল্লেখ করেছে উক্ত ৮ নম্বর খেলনা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়শ্রী গ্রামে মফিজ উদ্দিন চৌধুরী নামে কোনো ব্যক্তির কখনোই অস্তিত্ব ছিল না।

এ ছাড়া রাজশাহী সদর সাব-রেজিস্ট্রার রেকর্ড রুমের মহাফেজখানা থেকে সঠিকতা যাচাই অন্তে ২০২৩ সালের ২৬শে এপ্রিল নওগাঁ জজ কোর্টের ভিপি কৌঁসুলি আবু রশিদ মো. তৌফিক মান্নান নিকট প্রেরিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে আত্রাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সম্পাদনা করা যে ৪টি দলিল যাচাইয়ের জন্য দেয়া হয়েছিল মহাফেজখানায় রক্ষিত ভলিউমে সেই ৪টি দলিলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারের নিকট জাল দলিল বলে প্রতীয়মান হয়। মামলার অন্যতম সাক্ষী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত-আফছার আলীর ছেলে জাকির হোসেনের দাবি করেন, আ’লীগ সরকারের সাবেক এমপি প্রয়াত ইসরাফিল আলম ও সাবেক জিপি মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ তাদের আত্মীয়দের দিয়ে সম্পত্তি নিজেদের কব্জায় নিতে ১৯৬৭ সালসহ কয়েকটি জাল দলিল দিয়ে ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে সাজানো মামলা করে।

পরে কাগজপত্র যাচাইয়ে পরিষ্কার হয় তারা জাল দলিল সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান দায়ের করা ফৌজদারি মামলার অধিকাংশ আসামি সবাই আ’লীগ সরকারের নওগাঁর সাবেক জিপি মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ, লেখক মাশরুম ও ইসরাফিল এমপির আত্মীয়-স্বজন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাকিবুল হাসান জানান, চককুজাইল ও কাশিমপুর মৌজার ৩৭ একর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য কিছু ব্যক্তি ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। পরে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন