মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পাকিস্তানের বিবাহের বাজারে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পাকিস্তানের বিবাহের বাজারে

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পরেছে পাকস্তানের বিবাহের বাজারে। পাকিস্তান সরকার ব্যয় সংকোচনের উদ্দ্যেশে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশটির বিবাহের বড় ধরনের সংকটে আছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতির কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল। বিয়ে বিষয়ক প্রযুক্তি স্টার্টআপ শাদিয়ানার এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ইজ্জাহ জামান জানিয়েছেন, অনেক ম্যারেজ হল জনপ্রতি ভাড়া ৫০০ রুপি পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

আবার কিছু ভেন্যু শীতকালীন মৌসুমের জন্য আগাম মূল্য নির্ধারণ করতেও রাজি নয়, কারণ তেলের দাম ও অন্যান্য ব্যয়ের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে পুরোনো নিয়মগুলো আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার বাধ্যবাধকতা, এক-পদের খাবার নীতি এবং নিয়ম ভাঙলে পুলিশের হস্তক্ষেপ। বিশেষ করে একাধিক ভেন্যু এই নিয়ম ভঙ্গের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীতে বিয়ের অনুষ্ঠানও নানা বাধার মুখে পড়ছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শীত মৌসুমে শুধু করাচি শহরের বিয়ে বাজারের মূল্য ছিল প্রায় ৩৩০০ কোটি রুপি। অন্যদিকে শাদিয়ানা জানিয়েছে, সারা দেশে বিয়ে খাতে তাদের বাজারমূল্য প্রায় ৯০ কোটি ডলার। তবে এত বড় বাজার হওয়া সত্ত্বেও এই খাত দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ও খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই সমস্যার সমাধান করতেই ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করে শাদিয়ানা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

স্টার্টআপ যখন নতুন করে জনপ্রিয় হতে শুরু করে সেই সময় পাকিস্তানে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছিল তখন ইজ্জাহ জামান ও তাঁর সহপ্রতিষ্ঠাতা পশ্চিমা মডেল অনুসরণ না করে স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। ইজ্জাহ বলেন, বিয়ের বিষয়টি এমন কিছু নয়, যা পশ্চিমা দেশ থেকে কপি করে এখানে চালানো যাবে। এটি পুরোপুরি স্থানীয় একটি ব্যাপার। পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের হল খোঁজার জন্য মানুষকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরতে হতো। অনেক সময় গিয়ে দেখা যেত নির্ধারিত তারিখ আগেই বুকড হয়ে গেছে। শাদিয়ানা সেই বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়াকে অনলাইনে নিয়ে এসেছে।

প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের মেহেদি শিল্পী, আলোকচিত্রী, ক্যাটারিং সার্ভিস এবং ম্যারেজ হলসহ বিভিন্ন সেবাদাতার সঙ্গে সংযুক্ত করে। ২০২১ সালে মাত্র আড়াই হাজার ডলারের তহবিল নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদে ৩০ হাজারের বেশি বিয়ের আয়োজন করেছে। পরে তারা থেকে ৮ লাখ ডলারের বিনিয়োগও পায়। বর্তমানে শাদিয়ানার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে ৫ লাখের বেশি ব্যবহারকারী এবং ৬০০-এর বেশি ভেন্ডর রয়েছে। যদিও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিয়ে আয়োজনকে সহজ করছে, তবুও সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ থেকে এই খাতও রক্ষা পাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধের কারনে হওয়া মূল্যস্ফীতির আগে শাদিয়ানায় একটি বিয়ের গড় বাজেট ছিল প্রায় ৬ লাখ রুপি। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে সবচেয়ে কম ২০ হাজার রুপি এবং সর্বোচ্চ ৪৪ লাখ রুপির বিয়েও আয়োজন করা হয়েছে। তবে এখন সামগ্রিক প্রবণতা নিম্নমুখী।

আগে যেখানে একটি বিয়েতে গড়ে ৪০০ অতিথি থাকত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ১৫০ জনে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ভেন্যু, ফটোগ্রাফি ও ক্যাটারিং খরচও কমিয়ে আনছেন গ্রাহকরা। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ হবে না, তবে তা হবে অনেক ছোট পরিসরে এবং সীমিত বাজেটে।

পারভেজ

২ মাস আগে

প্রেম আর যুদ্ধ আটকে রাখা যায় না। দরকার হলে টর্চলাইট জ্বালিয়ে বিয়ের হাঙ্গামা চলবে

মন্তব্য করুন