চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান

চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান

ফন্ট সাইজ:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহসিকতায়’ জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, যখনই ‘কূটনৈতিক সমাধান সামনে আসে’, তখনই ওয়াশিংটন সামরিক পথ বেছে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরানিরা কখনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। এর একদিন আগে উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

আব্বাস আরাঘচি প্রশ্ন তোলেন, এটি কি একটি স্থূল চাপ প্রয়োগের কৌশল? নাকি আবারও কেউ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করে আরেকটি জটিল সংকটে ঠেলে দিচ্ছে?

সংঘর্ষ সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেটি বন্ধে আলোচনা এগিয়ে নেয়া। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতে, ইরান শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও শুক্রবার দিবাগত রাতকে রেড লাইন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান কোনো জবাব দিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রায় ২ হাজার জাহাজকে মুক্তভাবে চলাচলের সুযোগ দিতে একটি মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু করেন। পরে সেটি স্থগিত করেন। ফেব্রুয়ারি থেকে এসব জাহাজ ওই এলাকায় আটকা পড়েছে।

এদিকে, তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও বজায় রেখেছে, যাতে ইরান মার্কিন শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়। এই পদক্ষেপে ইরান ক্ষুব্ধ। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি খালি তেলবাহী জাহাজকে তারা অচল করে দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়, চলমান মার্কিন অবরোধ ভেঙে জাহাজ দুটি ইরানি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজগুলোর ধোঁয়া নির্গমন পাইপে আঘাত হানে, যাতে তারা ইরানে প্রবেশ করতে না পারে। সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ৭০টির বেশি ট্যাংকারকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা বের হওয়া থেকে বিরত রাখছে। নতুন এই মার্কিন হামলার আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়, যার দায় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর চাপিয়েছে।

সেন্টকম অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট বোট ব্যবহার করে উসকানিবিহীন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহরের বরাত দিয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর জানায়, মিনাব উপকূলের কাছে আক্রান্ত একটি পণ্যবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। রাদমেহর বলেন, আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অন্য নাবিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে স্থানীয় দল ও উদ্ধারকারীরা কাজ করছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন