কারাবন্দি সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি আগের চেয়ে উন্নত হওয়ার সরকারি মেডিকেল বোর্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। খানের বোন আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, সরকারি মেডিকেল রিপোর্টের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।
গত সপ্তাহে আদালতে জমা দেয়া এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, খানের এক চোখের অধিকাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ নিয়ে বিতর্কের পর সরকার-নিযুক্ত একটি মেডিকেল বোর্ড কারাগারে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। আল জাজিরার দেখা সেই মেডিকেল রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৩৬ থেকে উন্নীত হয়ে ৬/৯ হয়েছে। বাম চোখে চশমা ব্যবহার করে তার দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ রয়েছে।
চক্ষুবিজ্ঞানের ভাষায় ৬/৬ মানে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি। আর ৬/৯ মানে একজন ব্যক্তি ৬ মিটার দূর থেকে যা দেখতে পারেন, স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি তা ৯ মিটার দূর থেকে দেখতে পারেন।
রোববার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে দুই সদস্যের একটি বোর্ড এই পরীক্ষা করে। বোর্ডে ছিলেন চিকিৎসক নাদিম কুরেশি ও মুহাম্মদ আরিফ খান। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সেখানে বন্দি আছেন। তিনি পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ পার্টির (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা।
তবে খানের পরিবার জানিয়েছে, তারা কর্তৃপক্ষের দাবি বিশ্বাস করে না। খানের বোন আলিমা খান বলেছেন, পরীক্ষার সময় খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে না দেয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের প্রতিনিধির শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া সরকারের করা পরীক্ষা, চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো দাবিই আমরা গ্রহণ করি না।
এদিকে, ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত শাওকাত খানম মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসকদের একজন আসিম ইউসুফ এক ভিডিও বার্তায় জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি খানের পরীক্ষা করা দুই চিকিৎসকের সঙ্গে তার প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়েছে।
পিটিআই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে ইউসুফ বলেন, সফরকারী চিকিৎসকেরা তাকে চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ পরিচর্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তাদের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, চিকিৎসার ফলে খানের দৃষ্টিশক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
