কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এদিকে, ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়াতে আরও ভেঙে পড়েছেন নিহতের পরিবার। নিহতের ছোট ভাই রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র জোবায়ের হোসেন খন্দকার ফাহিম জানান, আসামি গ্রেপ্তার না হওয়াতে আমাদের পরিবারে আহাজারি থামছেই না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে যাতে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। আমরা হয়তো বোনকে পাবো না কিন্তু ঘাতকদের শাস্তি হলে আমার বোনের আত্মা কিছুটা শান্তি পাবে। তিনি আরও বলেন, অনেক নির্যাতন করা হয়েছে আমার বোনের ওপর। ফাঁস লাগানো ছবিগুলো দেখলে যে কেউ বুঝবে, তাকে মেরে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে।
আমার বোনের গলার মধ্যে আঘাতের চিহ্ন ও ফুটো দেখা গেছে। দুই পায়ে, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নির্যাতনের পর মেরে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে যারা তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়েছে। আমরা ওই সকল ঘাতকের ফাঁসি চাই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অমর্ত্য মজুমদার জানান, অভিযুক্ত পুরো পরিবার পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারবো।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার শ্বশুরবাড়ির ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মেহেদী হাসান (হৃদয়) পলাতক। বুধবার রাতে জান্নাতুনের বাবা স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ বাদী হয়ে নিহতের স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
