জেনেভায় মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় পরোক্ষাভাবে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে আলাপকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি আছে ইরান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, এ আলোচনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইরান বরাবরই আলোচনার টেবিলে কঠোর অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু গত গ্রীষ্মে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়, তখন তারা সেই অবস্থানের পরিণাম বুঝতে পেরেছে।
ট্রাম্পের মতে, চুক্তি না করার পরিণাম ভোগ করতে তারা (ইরান) আর চাইবে বলে আমার মনে হয় না।
ইরানের তরফে বলা হয়েছে, আলোচনায় পরমাণু ইস্যু প্রাধান্য পাবে। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা নিয়েও আলোচনা হবে। এই আলোচনাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে।
গত জুনে মার্কিন হামলার আগে আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ, ওয়াশিংটন দাবি জানিয়েছিল, ইরানকে তাদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এপথেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান পাঠানোর বদলে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওই বিমানগুলো পাঠাতে হয়েছিল। আমি আশা করি, এবার তারা আরও যৌক্তিক আচরণ করবে।
অন্যদিকে গত সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, তিনি একটি ন্যায়সংগত ও সমতাপূর্ণ চুক্তি করতে জেনেভায় এসেছেন। তবে আরাগচি স্পষ্ট করে দেন, হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে নেই।
