যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস সীমান্তে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত তিন পলাতককে গ্রেপ্তার করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে শিশুর ওপর গুরুতর নীপিড়নের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিবিপি বৃহস্পতিবার জানায়, সীমান্ত পারাপারের সময় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে বায়োমেট্রিক যাচাই ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাটাবেস ব্যবহার করা হয়। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অপরাধীদের পক্ষে লুকিয়ে থাকা সম্ভব নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন হলেন ৪৪ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক পেদ্রো গার্সিয়া মার্টিনেজ। নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং একটি শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি পরোয়ানা রয়েছে।
সিপিবি জানায়, ৩০ এপ্রিল লারেডোর জুয়ারেজ-লিংকন ব্রিজ দিয়ে বাসে যাত্রাকালে তাকে তল্লাশির জন্য পাঠানো হয়। পরে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় ও গেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে আটক করা হয়। মার্টিনেজের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে। একই দিনে লারেডোর জুয়ারেজ-লিংকন ব্রিজে আরেক অভিযানে গ্রেপ্তার হন ৪৯ বছর বয়সী হন্ডুরাসের নাগরিক অ্যালান জোসুয়ে ক্যাবরেরা মারাদিয়াগা। লুইজিয়ানার সেন্ট বার্নার্ড প্যারিশে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
এ ছাড়া মেক্সিকো থেকে গাড়ি চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আনজালদুয়াস আন্তর্জাতিক সেতুতে গ্রেপ্তার হন ৫৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জেসুস হার্নান্দেজ রেসেনদেজ। টেক্সাসের হিডালগো কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে একটি শিশুর ওপর গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফক্স নিউজ।
সিবিপির লারেডো ফিল্ড অফিসের পরিচালক ডোনাল্ড আর. কাসার অপরাধীরে উদ্ধেশ্যে বলেন, তারা পালাতে পারে, কিন্তু চিরদিন লুকিয়ে থাকতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধ সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে একটি। সিপিবি আরও জানায়, হত্যা, যৌন নিপীড়ন, মাদক পাচার ও ডাকাতির মতো অপরাধে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে নিয়মিতভাবে ন্যাশনাল ক্রাইম ইনফরমেশন সেন্টার সহ বিভিন্ন ফেডারেল ডাটাবেস ব্যবহার করা হয়। তবে সিবিপি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।
