ভোলার লালমোহনে নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. মাসুদ হাওলাদার (৪২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সুকুমদ্দিন হাওলাদার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পরে নিহতের মেয়ে মাসুমা বেগম বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রেশমা বেগম (৩৫), ফিরোজ (৪৫), তানভির (২৫) ও আক্তার (৩০)। সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাসুদ হাওলাদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে হাওলাদার বাড়ির রেশমা, তার স্বামী ফিরোজ ও ছেলে সজীবসহ আরও কয়েকজন একই বাড়ির মাসুদ হাওলাদারের গাছ থেকে নারিকেল পাড়তে যান। এ সময় মাসুদের মেয়ে মাসুমা বেগম তাদের বাধা দিলে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেশমা তার হাতে থাকা দা দিয়ে মাসুমার ওপর হামলা চালান। পরে মাসুদের বোন ফাতেমা বেগম তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে বাজার থেকে বাড়িতে ছুটে যান মাসুদ হাওলাদার। এ সময় রেশমা, তার স্বামী ও ছেলে আরও উত্তেজিত হলে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে মাসুদসহ দুইপক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। তবে মাসুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরে সেখানে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
